জনবল সঙ্কটে বেনাপোল স্থলবন্দর, ব্যাহত হচ্ছে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম

বেনাপোল স্থলবন্দরে মোট ৭৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে পর্যাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় দায়িত্ব পালনরত কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

রাশেদুর রহমান রাশু, বেনাপোল (যশোর)

Location :

Jashore
বেনাপোল বন্দর
বেনাপোল বন্দর |নয়া দিগন্ত

দেশের স্থলবন্দর গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম বন্দরগুলোর একটি বেনাপোল স্থলবন্দর। ভারতের সাথে বাংলাদেশের স্থলপথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই এই বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভৌগোলিক অবস্থান ও ভারতের কলকাতার সাথে তুলনামূলক কম দূরত্বের কারণে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়ে থাকে। বিশেষ করে ভারত থেকে আমদানি করা বিভিন্ন ধরনের পণ্য এবং রফতানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল পরিবহনে এই বন্দরের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয় বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের।

তবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরটি বর্তমানে বড় ধরনের জনবল সঙ্কটে ভুগছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্দরটির বিভিন্ন পদ শূন্য পড়ে থাকলেও সেসব পদে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ বা পদায়নের কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দরে মোট ৭৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে পর্যাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় দায়িত্ব পালনরত কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। একদিকে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের পরিমাণ বাড়ছে, অন্যদিকে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল না থাকায় বন্দরের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজের গতি কমে যাচ্ছে।

এরই মধ্যে গত ৩ আগস্ট বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক বদলি হয়েছেন। তবে তার স্থলে এখনো নতুন কোনো পরিচালককে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। ফলে বন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দরের শীর্ষ পদে দ্রুত নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ বা পদায়ন না হলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের গুরুত্বের অন্যতম কারণ ভারতের সাথে এর ভৌগোলিক যোগাযোগ। বন্দর থেকে কলকাতার দূরত্ব তুলনামূলক কম হওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ স্থলবাণিজ্যে বেনাপোলের ওপর ব্যবসায়ীদের নির্ভরতা অনেক বেশি। ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা মোট পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আসে।

এই বিপুল পরিমাণ আমদানি পণ্যের মধ্যে শিল্পকারখানার কাঁচামাল, বিশেষ করে দেশের শতভাগ রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ রয়েছে। ফলে বন্দরের কার্যক্রমে সামান্য ধীরগতিও সরাসরি আমদানিকারক, পরিবহন ব্যবসায়ী এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

একটি পণ্য বন্দরে প্রবেশের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত খালাস করা না গেলে শুধু আমদানিকারকের সময়ই নষ্ট হয় না, একই সাথে বাড়তে থাকে পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ। সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যের বাজার মূল্যের ওপরও পড়তে পারে।

ব্যবসায়ীদের বলছেন, বেনাপোল বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে একদিকে আমদানিকারকদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে বন্দরের সক্ষমতাও বাড়বে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই সেই কাঙ্ক্ষিত গতি পাওয়া যাচ্ছে না।

বেনাপোল বন্দরের জনবল সঙ্কটের চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ডেপুটি পরিচালকের পদে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল বন্দরে ডেপুটি পরিচালকের মোট চারটি পদ রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব পদের বিপরীতে মাত্র একজন ডেপুটি পরিচালক দায়িত্ব পালন করছেন।

একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতে হওয়ায় কাজের চাপ বাড়ছে। একই সাথে বন্দরের বিভিন্ন বিভাগ ও স্থানে সমন্বয় করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। একটি বড় ও ব্যস্ত স্থলবন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় যেখানে একাধিক কর্মকর্তার প্রয়োজন, সেখানে মাত্র একজন ডেপুটি পরিচালক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে ঢাকায় অবস্থিত প্রধান দফতরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে ডেপুটি পরিচালকের অনুমোদিত পদ রয়েছে চারটি। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন সাতজন। অর্থাৎ অনুমোদিত সংখ্যার তুলনায় সেখানে অতিরিক্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।

এ অবস্থায় ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান দফতরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কর্মকর্তা থাকলেও দেশের অন্যতম ব্যস্ত স্থলবন্দরে কেন দীর্ঘদিন ধরে ডেপুটি পরিচালকের পদ শূন্য পড়ে থাকবে?

বেনাপোল স্থলবন্দরের বিভিন্ন পদে জনবল ঘাটতির আরেকটি চিত্র পাওয়া যায় কর্মচারীদের হিসাবেও। বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার হাউস সুপারিনটেনডেন্ট সহ বিভিন্ন কর্মচারীর জন্য মোট ২১৬টি পদ রয়েছে। কিন্তু এসব পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪১ জন।

অনুমোদিত পদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদে লোকবল নেই। ফলে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বন্দরের বিভিন্ন শেড ও গুদাম এলাকায় পণ্য ওঠানো-নামানো এবং তদারকির সাথে যুক্ত কর্মকর্তাদের ওপর চাপ বেশি পড়ছে।

একজন কর্মকর্তাকে একাধিক স্থান বা শেডের দায়িত্ব দেয়ার কারণে প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট স্থানে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা জরুরি। কোনো একটি পর্যায়ে বিলম্ব হলে তার প্রভাব পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়ে। ফলে পণ্য খালাসে দেরি হলে ট্রাক, শ্রমিক, গুদাম এবং অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত খরচ বেড়ে যায়।

বেনাপোল স্থলবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে ৭৯টি পদ শূন্য থাকলেও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু এখনো এসব শূন্য পদ পূরণে কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি।

বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু নতুন জনবল নিয়োগ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তাদের সঠিক পদায়নও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ একটি স্থানে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কর্মকর্তা থাকলে এবং অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মকর্তা সংকট থাকলে সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারে না।

বর্তমানে ঢাকার প্রধান দফতরে অতিরিক্ত ডেপুটি পরিচালক থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রধান দফতরে কয়েকজন ডেপুটি পরিচালক দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করলেও তাদের দেশের অন্যান্য বন্দরে পদায়ন করা হচ্ছে না। অথচ বেনাপোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে ডেপুটি পরিচালকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

সূত্রের দাবি, প্রধান দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত পাঁচজন ডেপুটি পরিচালক হলেন শামীম সোহানা, ফয়জুন নাহার, শাকিলা সুলতানা পলি, কমল চন্দ্র শীল ও মশিউর রহমান। এরা সকলেই দীর্ঘ দুই যুগ ধরে ধরে ঢাকার প্রধান দফতরেই দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে ডেপুটি পরিচালক রেজাউল করিম ও মাহফুজুল ইসলাম ভূঁইয়া বিভিন্ন সময়ে ঢাকার বাইরের বন্দরে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে একই দফতরে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন বন্দরে পদায়ন করা হলে জনবল সঙ্কট কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

জনবল সঙ্কটের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন আমদানিকারকরা। তাদের অভিযোগ, বন্দরে পণ্য পৌঁছানোর পর নির্ধারিত সময়ে লোড-আনলোডের কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি পণ্য একদিনে খালাস হওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা না থাকায় তা পরবর্তী দিন পর্যন্ত গড়াচ্ছে।

বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ‘বন্দরে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় আমদানিকৃত পণ্য সময়মতো লোড ও আনলোড করা যাচ্ছে না। একজন ওয়ার হাউস সুপারিনটেনডেন্টকে একাধিক স্থানে দায়িত্ব দেয়ার কারণে প্রয়োজনের সময় তাকে পাওয়া যায় না।’

তিনি বলেন, ‘কোনো আমদানিকারকের প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট শেডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকলে পণ্য লোড বা আনলোডের কাজ শুরু করতেই দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ফলে একই দিনের কাজ কখনো কখনো দুই দিন পরও শেষ করতে হচ্ছে।’

তার ভাষ্য অনুযায়ী, পণ্য খালাসে বিলম্ব হলে ট্রাক আটকে থাকে। এতে আমদানিকারককে প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ট্রাক ভাড়া বাবদ প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। এই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় এবং এর চাপ গিয়ে পড়ে সাধারণ ভোক্তার ওপর।

বেনাপোল বন্দরের সাথে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় একটি অংশ সরাসরি যুক্ত। তাই এই বন্দরের কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী ধীরগতি তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু বন্দর এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দেশের বিভিন্ন শিল্প ও বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন শিল্পের প্রয়োজনীয় উপকরণ দ্রুত খালাস করা না গেলে উৎপাদন কার্যক্রমেও সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় না পৌঁছালে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বেনাপোল স্থলবন্দরকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে হলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জনবল সংকটের দ্রুত সমাধান করতে হবে। যেসব পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে, সেগুলো দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রধান দফতর ও বিভিন্ন বন্দরে কর্মরত কর্মকর্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া দরকার।

শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, দায়িত্বের সুষ্ঠু বণ্টন এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশেষ করে ওয়ারহাউস ও পণ্য ওঠানো-নামানোর সাথে সরাসরি যুক্ত পদগুলোতে পর্যাপ্ত কর্মকর্তা না থাকলে আমদানি কার্যক্রমের গতি বাড়ানো কঠিন হবে।

ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। শূন্য পদগুলো পূরণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে। একই সাথে বন্দর পরিচালনার ক্ষেত্রে কোথায় কতজন জনবল প্রয়োজন, সেটিও নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ ও দেশের বাজারে বিভিন্ন পণ্য পৌঁছে দিতে এ বন্দরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনবল সঙ্কটের মতো মৌলিক সমস্যার কারণে যদি বন্দরের কার্যক্রম ধীর হয়ে পড়ে, তার নেতিবাচক প্রভাব ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এ কারণে বন্দরকে গতিশীল রাখতে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ, প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী পদায়ন, দায়িত্বের সঠিক বণ্টন এবং প্রশাসনিক শূন্যতা দূর করার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বেনাপোল বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হলে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, দক্ষ ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ স্থলবন্দরের চেয়ারম্যান মানজারুল মান্নান বেনাপোল বন্দরের জনবল সঙ্কটের সত্যতা স্বিকার করে বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বেনাপোল বন্দরে একজন পরিচালক পদায়ন সহ অন্যান্য জনবল সঙ্কটের সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে।