দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। বৈঠকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সার্ক সচিবালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উভয়পক্ষ দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্কের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, সার্ক ধারণার অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শান্তি, আস্থা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের যে দূরদর্শী চিন্তা তিনি সামনে এনেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় সার্ক প্রতিষ্ঠার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
প্রো-ভিসি ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা সময়ের দাবি। উচ্চশিক্ষা বর্তমানে বৈশ্বিক জ্ঞানবিনিময়, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এ বাস্তবতায় সার্কভুক্ত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ উদ্যোগ শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের, গবেষণানির্ভর ও দক্ষতাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ গবেষণা, অ্যাকাডেমিক সেশন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি চালু হলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে এবং আঞ্চলিক জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’
সার্ক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংস্কার ও মানোন্নয়ন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণে সার্ক সচিবালয় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’
দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি আঞ্চলিক উন্নয়ন ও মানবসম্পদ বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং সার্ক সচিবালয়ের মধ্যে ভবিষ্যতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর, যৌথ গবেষণা উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।


