সাভারে গ্রেফতার গোলাপি হত্যা মামলার ৩ আসামিকে রৌমারী থানায় হস্তান্তর

২৬ জুলাই মামলার ২ নম্বর আসামি হেলাল মিয়া জমির বিরোধ মীমাংসার কথা বলে মোবাইলফোনে গোলাপি খাতুনকে তাদের বাড়িতে ডেকে নেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে ৩০ জুলাই রৌমারী উপজেলার পুরাতন যাদুরচর এলাকার একটি ডোবার পানিতে তার লাশ ভাসতে দেখা যায়।

মোস্তাফিজুর রহমান তারা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)

Location :

Kurigram
গ্রেফতার হত্যা মামলার তিন আসামি
গ্রেফতার হত্যা মামলার তিন আসামি |নয়া দিগন্ত

রাজধানীর সাভারে গ্রেফতার কুড়িগ্রামের আলোচিত গোলাপি হত্যা মামলার তিন আসামিকে রৌমারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সাভার থানা পুলিশ গ্রেফতার তিন আসামিকে রৌমারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

এর আগে, বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে রাজধানীর সাভার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন— মামলার প্রধান আসামি মো: হাসিনুর রহমান (৪৬), ৩ নম্বর আসামি মো: আব্দুল মতিন (৪৫) ও ৬ নম্বর আসামি মো: রহমত আলী (৫৫)। তাদের সবার বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাওয়াইর চর এলাকায়।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩, রংপুর ও র‌্যাব-৪, সাভার ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার সাভারের দক্ষিণ রাজাশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি হাসিনুর রহমানকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন বিকেল ৩টার দিকে সাভারের আইচানোয়াদ্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপর দুই আসামি আব্দুল মতিন ও রহমত আলীকেও গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: কাউসার আলী জানান, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, নিহত গোলাপি খাতুনের সাথে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি কুড়িগ্রাম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার শুনানির তারিখ ছিল গত ২৯ জুলাই।

তদন্তে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই মামলার ২ নম্বর আসামি হেলাল মিয়া জমির বিরোধ মীমাংসার কথা বলে মোবাইলফোনে গোলাপি খাতুনকে তাদের বাড়িতে ডেকে নেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে ৩০ জুলাই রৌমারী উপজেলার পুরাতন যাদুরচর এলাকার একটি ডোবার পানিতে তার লাশ ভাসতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই ৩০ জুলাই রৌমারী থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান।