সালথায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শিশু নিহত

৪ লাখ টাকায় মীমাংসার চেষ্টা, বাবা চান বিচার

নিহত জান্নাতির বাবা ইলিয়াস মুন্সি বলেন, ‘আমাদের এখানে গ্রাম্য দল পক্ষের একটি প্রথা রয়েছে, চেয়ারম্যান ও মাতুব্বরদের কথা শুনতে হয়। এজন্য আমার ভাই, ভাতিজা, সাবেক চেয়ারম্যান মনির মোল্লাসহ স্থানীয়রা বসে আমার মেয়ের ঘটনার বিষয়ে চার লাখ টাকা দিতে চেয়েছে। কিন্তু আমি টাকা চাই না। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর বিচার চাই।’

Location :

Faridpur
শিশু নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা না করে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়
শিশু নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা না করে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয় |নয়া দিগন্ত

সালথা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা

ফরিদপুরের সালথায় স্কুলে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শিশু শিক্ষার্থী জান্নাতি আক্তারের (৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা না করে স্থানীয়ভাবে চার লাখ টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। তবে নিহত শিশুটির বাবা জানিয়েছেন, তিনি কোনো টাকা চান না, তিনি মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তির বিচার চান।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকারে সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বড়বাংরাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শিশুটির মৃত্যুর পর থানায় মামলা না করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির মোল্লার উদ্যোগে মোটরসাইকেল চালকের পক্ষের সাথে নিহত শিশুর পরিবারের চার লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মনির মোল্লা বলেন, দুই পক্ষই গরিব মানুষ। তাই মামলার দিকে না গিয়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মীমাংসা করেছি।

থানায় না গিয়ে এমন সড়ক দুর্ঘটনার বিষয় স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা যায় কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে মনির মোল্লা বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছেন।

তার দাবি, তিনি উদ্যোগ না নিলে শিশুটির পরিবার চার লাখ টাকাও পেত না এবং তাদের দীর্ঘদিন থানা-পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হতো।

নিহত জান্নাতির বাবা ইলিয়াস মুন্সি বলেন, ‘আমাদের এখানে গ্রাম্য দল পক্ষের একটি প্রথা রয়েছে, চেয়ারম্যান ও মাতুব্বরদের কথা শুনতে হয়। এজন্য আমার ভাই, ভাতিজা, সাবেক চেয়ারম্যান মনির মোল্লাসহ স্থানীয়রা বসে আমার মেয়ের ঘটনার বিষয়ে চার লাখ টাকা দিতে চেয়েছে। কিন্তু আমি টাকা চাই না। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর বিচার চাই।’

অন্যদিকে জান্নাতির চাচা আব্দুর রহমান জানান, তাদের ডেকে নিয়ে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে একটি সমাধান করা হয়েছে এবং তারা সেই সমাধানের পথেই হাঁটছেন।

এ বিষয়ে সালথা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছি। এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকজন সহপাঠীর সাথে স্কুলে যাচ্ছিল জান্নাতি। এ সময় একই গ্রামের সেলিম মুন্সির ছেলে সজিব মুন্সি দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে ফুলবাড়িয়া বাজারের দিকে যাচ্ছিল। পথে মোটরসাইকেলটি পেছন থেকে জান্নাতিকে ধাক্কা দিলে সে মারত্মক আহত হয়।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে ফুলবাড়িয়া বাজারে নিয়ে যান। এরপরে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত জান্নাতি আক্তার বড়বাংরাইল পশ্চিমপাড়ার ইলিয়াস মুন্সির মেয়ে। সে বড়বাংরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।