খাল পুনঃখনন শেষে ৬০ লাখ টাকা ফেরত দিলো উজিরপুর উপজেলা প্রশাসন

জনগণের করের টাকার প্রতিটি পয়সা দায়িত্বশীলভাবে ব্যয় করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর যে অর্থ উদ্বৃত্ত ছিল, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী এই অর্থ অন্য উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করতে পারবে।

বিএম রবিউল ইসলাম, উজিরপুর (বরিশাল)

Location :

Wazirpur
পুনঃখনন শেষে উজিরপুরের একমাত্র খাল
পুনঃখনন শেষে উজিরপুরের একমাত্র খাল |নয়া দিগন্ত

খাল পুনঃখনন শেষে প্রায় ৬০ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উজিরপুর উপজেলা প্রশাসন। উদ্বৃত্ত সরকারি অর্থ ফেরত দেয়ার এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গুঠিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য সরকার দুই কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। নির্ধারিত কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পের চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশে প্রায় ৬০ লাখ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। পরে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না করেও যে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব, উজিরপুরের এই প্রকল্প সেটিই দেখিয়েছে। তাদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলী সুজা নয়া দিগন্তকে বলেন, জনগণের করের টাকার প্রতিটি পয়সা দায়িত্বশীলভাবে ব্যয় করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর যে অর্থ উদ্বৃত্ত ছিল, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী এই অর্থ অন্য উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতি মানুষের আস্থা আরো বাড়বে।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, খাল পুনঃখননের ফলে পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিকাজে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একইসাথে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ায় এটি অন্য প্রকল্পের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে।

সুশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কেবল কাজ শেষ করাই নয়; বরং প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেয়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠলে জনসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হবে। উজিরপুরের এই উদ্যোগ সেই বার্তাই দিয়েছে।