জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কৃষকদের সেচ কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির সাথে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের তামার কয়েল, কপার, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, একটি প্রাইভেটকার ও একটি পিকআপভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে জীবননগর থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধারের বিষয়টি জানান।
গ্রেফতাররা হলেন মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার মরহুম আনোয়ারের ছেলে আব্দুল মালেক (৪৫), চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়ার জাহিদ শেখের ছেলে শিপলু (২৮), বগুড়ার কাহালু উপজেলার কাশেম খাঁর ছেলে টুলু (৪৪), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মরহুম মজিবরের ছেলে স্বপন উদ্দিন (৩৭), মিজানুরের ছেলে সবুজ শেখ (৩৭) ও আব্দুল গফুরের ছেলে জাফর আহমেদ (৩৪)। তাদেরকে আদালতে সোপর্দের পর সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ওসি জানান, গত ৪ আগস্ট সীমান্ত ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের কৃষক আবু জাফর বিশ্বাস (৪৮) যাদবপুর দক্ষিণ মাঠে তার সেচ প্রকল্পের বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে তিনটি ট্রান্সফরমারের খালি চেম্বার পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পরীক্ষা করে তিনি দেখতে পান, ট্রান্সফরমারগুলোর প্রতিটিতে থাকা প্রায় ১০ কেজি ওজনের তামার কয়েলসহ মোট ৩০ কেজি তামা এবং ট্রান্সফরমারের ভেতরের তেল চুরি হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই দিন অপর সেচ ব্যবসায়ী আনারুল ইসলামও তার একটি ট্রান্সফরমার থেকে তামা ও তেল চুরির অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় জাফর জীবননগর থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের তামার কয়েল, কপার, অন্য যন্ত্রাংশ ও চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, ‘গ্রেফতাররা দীর্ঘদিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সেচ কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করে মূল্যবান তামা, তেল ও অন্য যন্ত্রাংশ বিক্রি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ও চক্রটির সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’


