সাভারে ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু : তদন্ত কমিটি গঠন

পুলিশের অভিযানে ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি বলে জানান সাভার মডেল থানার ওসি।

আমান উল্লাহ পাটওয়ারী, সাভার (ঢাকা)

Location :

Savar
ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল হোসেন বকশী
ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল হোসেন বকশী |নয়া দিগন্ত

সাভারের পুলিশের অভিযানে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মনোয়ারুল হোসেন বকশীর (২৯) মৃত্যুর ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা করা হয়নি বলে জানা গেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সাইফুল আলম মামলা না হওয়ার বিষয়টি নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে রংপুরের পীরগাছা থানার একটি জিডির সূত্র ধরে ওই বাসায় গেলে তিনি ছাদ থেকে লাফ দেন। এতে তার মৃত্যু হয়। মৃত বকশী বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) নৈশপ্রহরী জাফর মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবারের সাথে বিপিএটিসির একটি পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলায় বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বকশীর ভাগনে শাহরিয়ার কবির সৌমিক প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে গত ২৩ জুলাই রংপুরের পীরগাছা থেকে মিম নামে এক কিশোরীকে নিয়ে সাভারে নানার বাসায় আসেন। এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবার পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সেই জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার রাতে পীরগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মণের নেতৃত্বে একটি দল সাভারে আসে। পরে সাভার থানা পুলিশের সহযোগিতায় বিপিএটিসি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসময় পুলিশ বকশীর বাবাসহ ভবনের ছাদে উঠার সময় দুই থেকে তিনজন পুলিশ আগেই পাঁচ তলায় উঠে যান। তখন অন্যরা ওঠার সময় চারতলা থেকে একটি বিকট শব্দ শুনতে পান।

এ সময় পুলিশ ও বাসার সদস্যরা নিচে নেমে বকশীর লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

একটি সূত্র জানায় অভিযানের সময় সৌমিক ও ওই কিশোরীকে বাসায় পাওয়া যায়নি।

ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন শিকদার নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘রংপুরের পীরগাছার পুলিশ এ ঘটনার পর রাতে গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল দ্রুত ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় সাভার থানা পুলিশকে কোনো ধরনের ইনফর্ম না করে পীরগাছা যাওয়ায় এক ধরনের ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের কাছে এ ধরনের আচরণ সন্দেহজনক।’

তিনি আরো জানান, পীরগাছার স্থানীয়দের বরাতে জানতে পেরেছেন স্থানীয়রা থানা ঘেরাও করে রেখেছেন।

ওসি সাইফুল আলম বলেন, ‘পীরগাছা থানার পুলিশের অভিযানে সহায়তার জন্য নিয়ম অনুযায়ী সাভার থানা থেকে পুলিশ সদস্য দেয়া হয়েছিল। সাভার থানার সদস্যরা ভবনের নিচে অবস্থান করছিলেন। বকশী কিভাবে ছাদ থেকে পড়ে গেলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

তিনি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।’

অভিযান শেষে কাউকে না জানিয়ে পীরগাছা থানার পুলিশ চলে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে পীরগাছা থানার পুলিশ দায় এড়াতে পারেন না। কারণ সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’