পোরশায় গত ৭ মাসে ১৯ জনের অপমৃত্যু

এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ছয়জন আত্মহত্যা করেছেন। শুধু গলায় ফাঁস দিয়েই আত্মহত্যা করেন চারজন।

পোরশা (নওগাঁ) সংবাদদাতা

Location :

Porsha

নওগাঁর পোরশায় গত সাত মাসে ১৯ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। হত্যা, আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা ও নানা অপমৃত্যুর শিকার এসব ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

থানা পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা, পানিতে ডুবে মৃত্যু, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও সাপের কামড়ে প্রাণহানির সংখ্যাই বেশি। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ছয়জন আত্মহত্যা করেছেন। শুধু গলায় ফাঁস দিয়েই আত্মহত্যা করেন চারজন।

তারা হলেন তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের পলাশ ডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা অতুল বর্মন (৬০), বড় রনাইল গ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত বর্মন (২৫), মশিদপুর ইউনিয়নের বালিচাঁদ গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল মন্ডল (৩৯) ও ঘাটনগর ইউনিয়নের তাঁতীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব আলী (৪৭)।

এছাড়া বিষপানে তাঁতিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুমাইয়া জান্নাত (১৮) এবং অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে ছাওড় খাতিরপুর গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম রাজু (১৮) আত্মহত্যা করেন।

অন্যদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন সরাইগাছি কাতিপুর গ্রামের বাসিন্দা হাফিজদ্দিন হাপি (৬৫), ইঞ্জিনচালিত নছিমন ভটভটির ধাক্কায় নিহত হয়েছেন আদিবাসীনেতা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রামলাল কুজুর (৪০)।

এছাড়াও ১ এপ্রিল নিতপুর ইউনিয়নের শীতলী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী আব্দুল মোকিমের ছোঁড়া প্রেসার কুকারের আঘাতে গুরুতর আহত হন স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (২৬)। পরে তার মৃত্যু হলে পুলিশ স্বামীকে আটক করেন।

গত মে মাসে সাপের কামড়ে মৃত্যু হয় ঠিকাদার সামিনুল ইসলাম শাহ (৫৫), ৮ জুলাই সাপের কামড়ে মৃত্যু হয় ইটাপুকুর গ্রামের শিশু আব্দুল্লাহ (১০), ১৭ জুলাই পশ্চিম হরিপুরের রাকিবুল ইসলাম (১৭) ও ৩১ জুলাই ধুলাডাঙ্গা গ্রামের ওসমান আলীর স্ত্রী ফাওজিয়া (৪৬)।

অপরদিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় শোভাপুর গ্রামের বাসিন্দা তহুরুল ইসলাম (৩৬), শিশা ডাঙ্গাপাড়ার সাইদুল ইসলাম (৪০), সর্বশেষ ২৮ জুলাই মশিদপুর ইউনিয়নের কাতকইল বিলপাড়া গ্রামের মরহুম আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল আজিজ (২৭) ও শফিউদ্দিনের ছেলে মাহবুর রহমান (২৮)।

এছাড়া পানিতে ডুবে মৃত্যু হয় ছাতিয়া গ্রামের ৬ বছরের শিশু ফাতেমা ও নিতপুর পূর্ব দিয়াড়াপাড়া গ্রামের ৭ বছরের শিশু মাহিম। এর বাইরে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নিতপুর ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণপুর কুলাডাঙ্গা গ্রামের খাড়ির ধার থেকে বুলু (৫৮) নামে সাপাহারের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেন থানা পুলিশ।

পোরশা থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, প্রত্যেকটি ঘটনায় নিয়মানুযায়ী থানায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে অকাল ও অস্বাভাবিক মৃত্যু রোধে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করছেন।