খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কয়রা উপজেলা শাখা।
বুধবার (১৩ আগস্ট) উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান ও সেক্রেটারি শেখ সায়ফুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।
১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৬টায় কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের মাওলানা সুজাউদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার (১২ আগস্ট) কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে মনিরুল হাসান বাপ্পি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে নিয়ে ‘মনগড়া ও অসত্য’ বক্তব্য দিয়েছেন। এসব বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলা জামায়াত।
জামায়াত নেতারা দাবি করেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
তারা বলেন, আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের পাশে রয়েছেন এবং সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সম্প্রতি মনিরুল হাসান বাপ্পি সরকারি বরাদ্দের অর্থ সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও নিকটাত্মীয়দের দেয়া এবং চাল-গমসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার অর্থ জামায়াতের কর্মীরা আত্মসাৎ করছেন বলে যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
জামায়াত নেতাদের দাবি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও দেশী-বিদেশী সংস্থার বরাদ্দকৃত সহায়তা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংসদ সদস্যকে জড়িয়ে বাপ্পীর দেয়া বক্তব্যও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে উপজেলা জামায়াত। একই সাথে সংসদ সদস্যের অনুকূলে বরাদ্দকৃত পানির ট্যাংক জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে মনিরুল হাসান বাপ্পী কীভাবে বিতরণ করেছেন এবং তা তার দায়িত্ব ও এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না, সেটি খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অসত্য বক্তব্য প্রচারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মনিরুল হাসান বাপ্পীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে আধুনিক কয়রা-পাইকগাছা গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।


