ঠিকাদার লাপাত্তা : ৭ বছরেও শেষ হয়নি নলাম সেতুর নির্মাণ কাজ

নির্মাণ কাজ শুরুর ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও আশুলিয়ার বংশী নদীর উপর নির্মাণাধীন নলাম সেতুর কাজ শেষ হয়নি এখনো।

তুহিন আহামেদ, আশুলিয়া (ঢাকা)

Location :

Dhaka
আশুলিয়ার বংশী নদীর উপর নির্মাণাধীন ‘নলাম সেতু’
আশুলিয়ার বংশী নদীর উপর নির্মাণাধীন ‘নলাম সেতু’ |নয়া দিগন্ত

একটা সেতু বদলে দিতে পারে মানুষের ভাগ্য। কমিয়ে দিতে পারে বছরের পর বছর ধরে চলা মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ। কিন্তু নির্মাণ কাজ শুরুর ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও আশুলিয়ার বংশী নদীর উপর নির্মাণাধীন নলাম সেতুর কাজ শেষ হয়নি এখনো।

এদিকে কাজ শেষ না করেই চলে গেছেন ঠিকাদার। ফলে অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমেনি।

উপজেলা প্রশাসন বলছে, পূর্বের টেন্ডার বাতিল করে খুব শীঘ্রই নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে সেতুর বাকী কাজ সম্পন্ন করা হবে।

বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়ার বংশী নদীর উপর ২৫০ মিটারের নলাম ব্রিজটি ২০১৯ সালে টেন্ডারের মাধ্যমে নির্মাণের কাজ পান মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ (জেভি) নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যার চুক্তিমূল্য ছিল ২১ কোটি ৫৩ লাখ ১৭ হাজার ১৮৪ টাকা চুক্তিমূল্যের সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে অজ্ঞাত কারণেই সেতুর কাজ ধীর গতিতে করতে থাকে। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ করতে পারেনি ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ফলে পাশের নলাম, উনাইল, মাইঝাইল, পাইচাইল, ধামসোনা, গোপালবাড়ি, শিমুলিয়াসহ ১০টি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ শেষ হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটি হলে যেখানে ৫/১০ মিনিটেই গন্তব্যস্থানে যাওয়া যাবে, সেখানে যেতে সেখন সময় লাগে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা। এই সেতুটি হলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, গণবিশ্ববিদ্যালয় সহ অসংখ্য স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা অতি সহজেই যেতে পারবে। তবে সেতুর কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় এঅঞ্চলের মানুষ পড়েছে বিপাকে। সেতুটি হলে আশপাশের ১০টি গ্রামের নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও পোশাক শ্রমিক সহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ এখান দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।

এছাড়া, এই সেতুটির কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া এসব এলাকার কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিভিন্ন বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারছেন না। ১০ মিনিট সময়ে যেখানে বাজারে যাওয়ার কথা, সেখানে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরে বাজারে যেতে হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।

নদী পারাপারের জন্য ব্রিজের নীচে একটা নৌকা থাকলেও পারাপার হতে লেগে যায় কমপক্ষে ১ ঘণ্টারও বেশি সময়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থল কিংবা গন্তব্যস্থানে যাওয়া যায় না। তাই অতি দ্রুত সেতুর বাকী অংশের কাজ সম্পূর্ণ করার জোর দাবি জানান এ অঞ্চলের মানুষ।

সাভার উপজেলা প্রকৌশলী মো: মিনারুল ইসলাম জানান, ২০১৯ সাল থেকে অদ্যাবধি এই ব্রিজের কাজ হয়েছে ৮৩ ভাগ। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে ইতিমধ্যেই কাজটি বাতিল করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ পাঠানো হয়েছে এবং বাতিল প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম জানান, ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় প্রচন্ড রকমের জনদুর্ভোগ হচ্ছে। সেটা নজরে আসার পর ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করেছি কিন্তু কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে কাজটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাতিল হলেই পুনরায় টেন্ডারের মাধ্যমে বাকি কাজটুকু আগামী ২/৩ মাসের মধ্যেই সমাপ্ত হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।