ঝালকাঠিতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি থেকে মোটরসাইকেল কিনতে টাকা পরিশোধ করার পাঁচ বছর পরও পণ্য বা অর্থ ফেরত না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো: রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আইনজীবী হাচিবুর রহমান রাজু। এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন।
এর আগে, মঙ্গলবার ঝালকাঠি সদর আমলি আদালতের বিচারক এ আদেশ দেন।
মামলার বাদি হাচিবুর রহমান রাজু ঝালকাঠি সদর উপজেলার পূর্ব চাঁদকাঠি এলাকার বাসিন্দা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২১ সালের ১২ মার্চ ইভ্যালির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে তিনি একটি বাজাজ পালসার ১৫০ সিসি ডাবল ডিস্ক মোটরসাইকেল অর্ডার করেন। একই বছরের ১৫ মার্চ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবা নগদের মাধ্যমে মোটরসাইকেলের মূল্য বাবদ এক লাখ ছয় হাজার ৯৪০ টাকা পরিশোধ করেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোটরসাইকেল সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে, ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর স্থানীয় শোরুম থেকে মোটরসাইকেল কেনার জন্য এক লাখ ৭৪ হাজার টাকার একটি চেক দেয়। কিন্তু ব্যাংকে চেকটি জমা দিলে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট হিসাবটি ফ্রিজ করা রয়েছে। এরপর একাধিকবার যোগাযোগ করেও তিনি অর্থ বা মোটরসাইকেল কোনোটিই পাননি।
মামলার বাদি হাচিবুর রহমান রাজু বলেন, বিষয়টি আদালতের বাইরে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে অভিযুক্তরা অর্থ ফেরত না দেয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।
বাদি পক্ষের আইনজীবী ইমাম হোসেন বলেন, মামলার বাদি ই-ভ্যালি থেকে মোটরসাইকেল কিনতে দাম পরিশোধ করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তাকে মোটরসাইকেল সরবরাহ করা হয়নি এবং পরিশোধিত মূল্যও ফেরত ফেরত দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে ক্রেতা একাধিকবার যোগাযোগ ও সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি বিবেচনায় নিয়ে দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।


