জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে দেশের ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কুষ্টিয়ার ১৬ জন নাগরিক শহীদ হন এবং আহত হন অন্তত ৫৮৩ জন। এর মধ্যে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের দিন পুলিশের গুলিতে নিভে যায় আটটি তাজা প্রাণ। শহীদ পরিবারের সদস্যরা বলছেন, শুধু বিচারিক রায় নয়, তার কার্যকর বাস্তবায়নও দেখতে চান তারা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবরে যখন কুষ্টিয়াজুড়ে বিজয়ের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশের গুলিতে ঝরে যায় আটটি প্রাণ। আহত হন কয়েক শ ছাত্র-জনতা।
বিজয়ের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়। পুরো জেলায় নেমে আসে শোকের ছায়া। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিহতদের স্বজনদের আহাজারি আর আহতদের বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাসপাতালে নিহতদের লাশের স্তূপ জমে যায়। আহতের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, তাদের সঠিক হিসাব রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।
তৎকালীন পরিস্থিতিতে ঢাকা, কুষ্টিয়া ও চট্টগ্রামে কুষ্টিয়ার মোট ১৬ জন বাসিন্দা শহীদ হন বলে জানা যায়।
জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে সেই দিনের স্মৃতি এখনও কুষ্টিয়ার মানুষের মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টজুড়ে কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস, কাস্টমস মোড়, উপজেলা মোড়, সাদ্দাম বাজার, মজমপুর গেট, পাঁচ রাস্তার মোড় এবং থানাপাড়ার ছয় রাস্তার মোড় আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।
প্রতিদিনই আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হতো। ৪ আগস্ট কুষ্টিয়া শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। সেদিন অনেকেই আহত হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
থানাপাড়ার ছয় রাস্তার মোড়, মজমপুর গেট, থানা মোড়, চৌড়হাস ও সাদ্দাম বাজার এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের গুলিবর্ষণ ও টিয়ার শেলের শব্দে পুরো শহর প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
সেদিন থানাপাড়ার ছয় রাস্তার মোড় আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্যদিকে মজমপুর গেট পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জেলা স্কুল এলাকা, সাদ্দাম বাজার ও চৌড়হাস ছিল আন্দোলনকারীদের দখলে। দিনের শেষে সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইট, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সারা দিনের সংঘর্ষের তীব্রতার সাক্ষ্য বহন করছিল।


