সিলেট নগরীর রায়নগরে নিজ বাসায় প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ অন্য নেতারা।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তারা।
পরিদর্শনকালে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে নিজের বাসাতেও মানুষ নিরাপদ নয়। খুন-খারাবি, চুরি-ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তারকে স্ত্রী ও গৃহকর্মীসহ গলা কেটে হত্যার ঘটনায় সিলেটবাসী বাকরুদ্ধ ও আতঙ্কিত। এর আগে, গত ৩১ মে ওই রায়নগরে যুবক খুন হন, ২২ মে কিনব্রিজে খুন হন র্যাব সদস্য ও গত ২৭ জুলাই কাজিরবাজার ব্রিজে স্কুল ছাত্র খুন হন। শান্তি ও সম্প্রীতির নগরী হিসেবে পরিচিত সিলেটে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটলেও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান নয়। ফলে অপরাধীরা দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
সিলেট মহানগরী আমির বলেন, ‘মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণের কারণে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বত্র অরাজকতা বিরাজ করছে। এভাবে কোনো রাষ্ট্র চলতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তিনি রায়নগরের ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি সিলেট নগরীতে সম্প্রতি সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার ও খুন-খারাবি, চুরি-ছিনতাই বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, কোতোয়ালী পুর্ব থানা আমির রফিকুল ইসলাম মজুমদার, সাবেক ছাত্রনেতা সিদ্দিক আহমদসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আজকের এই নৃশংস ট্রিপল মার্ডার প্রমাণ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক। আমরা এই ঘটনায় মর্মাহত। সর্বত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম বহুগুণে বেড়ে চেলেছে। দেশে এখন রাস্তাঘাটে লাশ পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ চাইলে যে কোনো ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারে। রায়নগরের এই খুনের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সব ধরনের সন্ত্রাস মোকাবেলায় সিলেটবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটনে প্রশাসনকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।‘


