তদন্তের পর অবসর : ১৬ মাসেই বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়ানো মো: জাহাঙ্গীর আলম খানকেই এবার একই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi
বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান
বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান |নয়া দিগন্ত

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়ানো মো: জাহাঙ্গীর আলম খানকেই এবার একই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

সরকারি চাকরি থেকে অবসরের প্রায় ১৬ মাস পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তাকে এক বছরের জন্য এ পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

বুধবার (১২ আগস্ট) তিনি নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার প্রজ্ঞাপনে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮-এর ১৪(২) ধারা উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলম খানকে নির্বাহী পরিচালক (গ্রেড-২) পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর আলম খানকে নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ওই সময় তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক মো: শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে তার নেতৃত্বে ‘কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী’ জোরপূর্বক দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশে উল্লেখ করা হয়। শফিকুল ইসলামকে কার্যালয় থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগও ওঠে।

ঘটনার দুই দিন পর, ২৫ মার্চ জাহাঙ্গীর আলম খানকে ‘জনস্বার্থে’ সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেয় কৃষি মন্ত্রণালয়। এরপর ২৭ মার্চ ওই ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমামকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

তবে ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন কী ছিল, তা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্তে জাহাঙ্গীর আলম খানের বিরুদ্ধে কোনো দায় নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না কিংবা তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।

এদিকে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীর আলম খান উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে। তার করা মামলাটি নিষ্পত্তির আগেই তাঁকে বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক পদে আবারো নিয়োগ দেয়া হলো বলে অভিযোগ উঠেছে।

নতুন নিয়োগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শফিকুল ইসলাম একজন ভালো মানুষ। কিন্তু তাকে বের করে দেয়ার প্রক্রিয়ার সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।’

তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক মো: শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিএমডিএর চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো: হাসান জাফির তুহিনের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

একই ব্যক্তিকে একদিকে ‘জনস্বার্থে’ সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেয়া এবং প্রায় ১৬ মাস পর আবার একই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আগের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে না আসা এবং অবসরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা মামলা নিষ্পত্তির আগেই নতুন নিয়োগ দেওয়ায় সিদ্ধান্তটির প্রক্রিয়া ও যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে সরকারের নতুন প্রজ্ঞাপনে জাহাঙ্গীর আলম খানকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি; বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনেই তার নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।