মিয়ানমারের সীমান্তে মৃত্যুফাঁদ

নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইনে আহত বাংলাদেশী জেলে

কক্সবাজারের উখিয়ার নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় জীবিকার তাগিদে মাছ ধরতে গিয়ে আবারও প্রাণঘাতী মাইনের মুখে পড়লেন এক বাংলাদেশী জেলে।

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া (কক্সবাজার)

Location :

Ukhia
নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইনে আহত বাংলাদেশী জেলে
নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইনে আহত বাংলাদেশী জেলে |নয়া দিগন্ত

কক্সবাজারের উখিয়ার নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় জীবিকার তাগিদে মাছ ধরতে গিয়ে আবারও প্রাণঘাতী মাইনের মুখে পড়লেন এক বাংলাদেশী জেলে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সীমান্তসংলগ্ন ডেকুবুনিয়া এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন উখিয়ার বালুখালীর বাসিন্দা মো: বদিউল আলম (৪৫)। রাখাইন সীমান্তে এখনো বিস্তীর্ণ এলাকা সাধারণ মানুষের জন্য ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদ হয়ে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে উখিয়ার পালংখালী সীমান্তসংলগ্ন রাখাইন এলাকার ডেকুবুনিয়া অংশে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আহত বদিউল আলম উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী গ্রামের বাসিন্দা এবং মো: সোনা মিয়ার ছেলে।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, বিস্ফোরণে বাংলাদেশী জেলে মো: বদিউল আলম আহত হয়েছেন।

তিনি জানান, আহত ব্যক্তি নোয়াপাড়া-ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমারের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। বিস্ফোরণের পর তিনি একই পথ দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পুঁতে রাখা স্থলমাইনের বিস্ফোরণেই তিনি আহত হয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিজিবি এবং সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের কারণে রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। এসব মাইনের সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কোনো ধারণা থাকে না। ফলে জীবিকার সন্ধানে সীমান্ত অতিক্রমকারী জেলে, কাঠ সংগ্রহকারী কিংবা অন্য সাধারণ মানুষ মুহূর্তেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থলমাইনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, এটি বহু বছর সক্রিয় অবস্থায় মাটির নিচে থেকে যেতে পারে। সংঘাত শেষ হলেও মাইন থেকে যায়, আর তার শিকার হন নিরীহ সাধারণ মানুষ। উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তের অনেক বাসিন্দা দারিদ্র্য, মাছের সঙ্কট কিংবা অধিক লাভের আশায় কখনো কখনো সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলে যান। কিন্তু একটি ভুল সিদ্ধান্ত পুরো পরিবারকে আজীবনের দুর্ভোগে ফেলতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করা শুধু আইনগত ঝুঁকিই নয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে। সীমান্তের ওপারে কোথায় মাইন রয়েছে, কোথায় সংঘর্ষ চলছে কিংবা কোন এলাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে, এসব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানা সম্ভব নয়।

রাখাইন রাজ্যে চলমান অস্থিতিশীলতা শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব প্রতিনিয়ত পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়। গুলিবর্ষণ, গোলার শব্দ, অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং স্থলমাইনের ঝুঁকি, সব মিলিয়ে সীমান্তবাসীর উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় আরো ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল সম্পর্কে স্থানীয়দের নিয়মিত অবহিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

Topics