১৬ ঘণ্টা ধরে ওসমানীতে আটকা সৌদিগামী ফ্লাইটের ৪১৯ যাত্রী

বিমানের টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে সময়মতো উড্ডয়ন করতে পারেনি। ফ্লাইটে চার শতাধিক যাত্রী। এদের মধ্যে বেশিরভাগই ওমরাহ যাত্রী।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর |নয়া দিগন্ত

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে আছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭-এর ফ্লাইট বিজি-২৩৫। ফ্লাইটটি সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে যাওয়ার কথা। কিন্তু বিমান আটকে থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা চরম বিপাকে পড়েছেন এ ফ্লাইটের ৪১৯ জন যাত্রী। এদিকে, জেদ্দায় আটকা আছেন বাংলাদেশগামী ফ্লাইটের পাঁচ শতাধিক যাত্রী। সিলেটের ওসমানী থেকে জেদ্দায় পৌঁছলে ফিরতি ফ্লাইটে তারা বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা। যাত্রীদের ৯০ শতাংশই ওমরাহ হজ যাত্রী।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আড়াইটার দিকে বিমান কর্তৃপক্ষ নয়া দিগন্তকে জানায়, বিকেলের দিকে ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশ্যে উড়াল দেবে। এর আগে শেষ হবে মেরামত কাজ।

জানা গেছে, সোমবার সিলেট থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে উড্ডয়ন করার জন্য প্রথম দফা উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিয়ে রানওয়েতে যায়। কিন্তু রানওয়েতে গিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় পাইলট সেখান থেকে বিমানটিকে ফিরিয়ে আনেন।

ফ্লাইটটি ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট উড়ে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটে জেদ্দা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক শরীফুল আলম জানান, বিমানের টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে সময়মতো উড্ডয়ন করতে পারেনি। ফ্লাইটে চার শতাধিক যাত্রী। এদের মধ্যে বেশিরভাগই ওমরাহ যাত্রী।

ত্রুটিপূর্ণ বিমানটি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রাউন্ডে রেখে মেরামত কাজ চলছে। স্থানীয় ও ঢাকা থেকে আসা ইঞ্জিনিয়াররা মিলে কাজ করছেন। কাজ শেষে হলে বিকেলের দিকে জেদ্দার উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়ার কথা রয়েছে।

আটকা পড়া যাত্রীদের রাতে বিভিন্ন হোটেলে নেয়া হয়েছে বলেও জানান শরীফুল আলম।

তবে ভুক্তভোগী যাত্রীদের অনেকেই জানিয়েছেন, মধ্যরাত পর্যন্ত তাদের হোটেলে নেয়া হয়নি। মধ্যরাতের পর তাদের বিভিন্ন হোটেলে নেয়া হয়েছে। এতে অনেক বয়স্ক ও নারী-শিশু যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

এ নিয়ে বিমানবন্দরে কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের সাথে যাত্রীদের বাকবিতন্ডার ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে, সিলেটের ফ্লাইটটি জেদ্দায় গিয়ে সেখান থেকে আরো পাঁচ শতাধিক যাত্রী নিয়ে ফেরার কথা ছিলো। কিন্তু বিমানের এ ফ্লাইট সিলেটে আটকা পড়ায় জেদ্দায় যাত্রীরা আটকা পড়েছেন।

সেখানে আটকা পড়া সিলেটের কয়েকজন যাত্রী এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেন- যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিমান কর্তৃপক্ষ তাদের খুবই নিম্নমানের হোটেলে নিয়ে রেখেছে এবং রাতের খাবারও দিয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের। এছাড়া সকালের নাস্তাও ভালো ছিলো না।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক শরীফুল আলম বলেন, ‘সেখানকার ব্যবস্থাপনায় আলাদা কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারাই ভালো বলতে পারবেন এ বিষয়ে।’