টানা দুই দিনের বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা-নালিতাবাড়ী সড়কের ধুরাইল বাজার এলাকায় বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছে। সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে সৃষ্ট গর্ত ক্রমেই বড় হওয়ায় ও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হালুয়াঘাট ও নালিতাবাড়ী উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ।
শুক্রবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে ধুরাইল বাজার এলাকায় সড়কের একাংশের নিচের মাটি সরে যেতে শুরু করে। শনিবার সকালে গর্তের আকার আরো বড় হয়ে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানে ওই স্থান দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির পাশে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে। জলাবদ্ধ পানি সড়কের নিচে ঢুকে মাটি সরে যাওয়ার কারণেই ধসের সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, শুধু ধসের স্থানটি মেরামত করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না করলে ভবিষ্যতে আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা, ধুরাইল, কৈচাপুর ও আমতৈল ইউনিয়নের মানুষের জন্য এটি অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। একইসাথে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান, নালিতাবাড়ী ও রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নসহ নালিতাবাড়ী সদরের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সড়ক ধসে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের এখন দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও নিয়মিত যাতায়াতকারী মানুষ বেশি সমস্যায় পড়েছেন।
ধারা বাজারের ব্যবসায়ী এম বি রায়হান বলেন, ‘ব্যবসার কাজে প্রায়ই নালিতাবাড়ী যেতে হয়। সড়কটি ধসে যাওয়ায় এখন প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে যেতে হবে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে।’
এই পথে নিয়মিত যাতায়াতকারী ফারুক ফকির বলেন, ‘হালুয়াঘাট যাওয়ার পথে সড়ক ভাঙা থাকায় মাঝপথে আটকে যেতে হয়েছে। পরে দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়েছে।’
নালিতাবাড়ীর মরিচপুরান গ্রামের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘সাইকেলে করে ধারা কলেজে যাতায়াত করি। সড়কটি ধসে যাওয়ায় এখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হবে।’
এদিকে সড়ক ধসের খবর পেয়ে বিষয়টি পরিদর্শনে দফতরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেছেন। হালুয়াঘাট উপজেলা প্রকৌশলী মো: আব্দুর রউফ জানান, সড়ক ধসের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। ভেঙে যাওয়া স্থান পরিদর্শনে দফতরের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেছেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়কটি মেরামতের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে সড়কের আরো অংশ ধসে গিয়ে হালুয়াঘাট-নালিতাবাড়ী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


