শার্শা ও বেনাপোলের বাজারে অর্ধেকে নেমেছে কাঁচা মরিচের দাম

ভারত থেকে ৩০৫ ডলারে প্রতি টন কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশী টাকায় প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে আমরা বাজারে বিক্রি করছি। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম আরো কমে আসবে।

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

Location :

Jashore
ট্রাক থেকে আনলোড করা হচ্ছে কাঁচা মরিচ
ট্রাক থেকে আনলোড করা হচ্ছে কাঁচা মরিচ |নয়া দিগন্ত

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলসহ বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অর্ধেকে নেমেছে। পাঁচ দিন আগেও এসব বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়।

সারাদেশে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু করে। গত পাঁচ দিনে ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে ৮০ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রথম চালানে একটি ভারতীয় ট্রাকে নয় হাজার ২০০ কেজি (৯.২ টন), মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় দ্বিতীয় চালানে তিনটি ট্রাকে ৪২ হাজার ২২০ কেজি (৪২.২২ টন), বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৪ হাজার কেজি (১৪ টন) এবং শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৫ হাজর কেজি (১৫ টন) কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।

এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে ৮০.৪২ টন বা ৮০ হাজার ৪২০ কেজি কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে।

মরিচ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে ৩০৫ ডলারে প্রতি টন কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশী টাকায় প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে আমরা বাজারে বিক্রি করছি। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম আরো কমে আসবে। তবে কাস্টমসের নানা জটিলতায় ও পণ্য ছাড়করণে জটিলতার কারণে রাজস্ব বেশি গুণতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন এবং আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন এবং সোমবার থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এদিকে, বেনাপোল বন্দরের কাঁচাবাজারে পাঁচ দিন আগেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেলেও আজ রোববার সকাল থেকে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়। বিক্রেতারা আশা করছেন আমদানি বাড়লে দাম কমে ১০০-এর নিচে নেমে আসবে।

ভারত থেকে আমদানিকৃত কাঁচা মরিচের চালান বন্দরে ঢোকার সাথে সাথে তার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোই দ্রুত দাম কমে আসছে। এ চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হলো শিমু এন্টারপ্রাইজ এবং বন্দর থেকে খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে সি অ্যান্ড এফ অ্যাজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সাথে সাথেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে আরো কাঁচা মরিচবাহী অনেকগুলো ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।