চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় যৌতুকের দাবি পূরণ না করায় নির্যাতনের পর নূর নাহার (১৮) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী নীরব হোসেন রনি ভূঁইয়া ও শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১০ জুন) সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ অভিযানে নেমে তাদের আটক করে। নিহত নূর নাহার নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা এবং তিনি সাত মাস বয়সী এক কন্যাশিশুর জননী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাইমচর উপজেলার উত্তর আলগী ইউনিয়নের বাসিন্দা অটোরিকশাচালক নীরব হোসেন রনি ভূঁইয়ার সাথে প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে নূর নাহারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে তাকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের।
নিহতের মা জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান তারা। সকালে হাইমচরে এসে জানতে পারেন, স্বামীর পরিবার ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করছে। তবে তাদের অভিযোগ, নূর নাহারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, রনি ভূঁইয়া মাদকাসক্ত ছিলেন এবং নিয়মিত মাদকের টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বিভিন্ন আসবাবপত্রের জন্য চাপ দিতেন। এসব দাবি পূরণ না করায় মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। গত মাসে মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে গোপনে ৩৭ হাজার টাকা দেয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
নূর নাহারের স্বজনদের দাবি, বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রায় চার লাখ টাকা দাবি করেছিলেন রনি ভূঁইয়া। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল এবং একাধিকবার মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
অন্যদিকে স্বামীর পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার রাতে নূর নাহার নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে রাত ১২টার দিকে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে লাশ চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হাসান বলেন, নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় স্বামী নীরব হোসেন রনি ভূঁইয়া ও তার মাকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরো জানান, ঘটনার সাথে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



