মিয়া গোলাম পরওয়ার

সরকারের দৃষ্টিতে জামায়াতকে ভোট দেয়া লোকজন এদেশের নাগরিক নন

‘এমপিদের যদি স্বাধীনভাবে ও গোপনে ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে ১১ দল মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু ৭৩ অনুচ্ছেদ তাদের দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য বাধ্য করে রেখেছে। এ ধরনের নিয়ম পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এজন্যই সংবিধান সংস্কার করা দরকার।’

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

Location :

Saidpur
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘জনগণের হক মেরে খাওয়ার জন্যই বিরোধী দলকে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সরকারের দৃষ্টিতে যেন জামায়াতকে ভোট দেয়া লোকজন এদেশের নাগরিক নন। তাই তাদের কোনো অধিকার নাই। শুধু বিএনপির ভোটাররাই সরকারের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির এমপিদের এলাকায় একের পর এক বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হলেও জামায়াতসহ ১১ দলের এমপিদের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করছে সরকার। তাদের প্রাপ্য সাধারণ বরাদ্দও কাটছাট করে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছেন তারা। আর বিশেষ বরাদ্দের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে লুটেপুটে খাওয়ার নেশায় মেতে উঠেছে।’

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অনিয়মতান্ত্রিক কাজে ব্যাপক প্রতিযোগিতা চলছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে। যে কারণে ব্যাপক অন্তঃকোন্দল দেখা দিয়েছে সরকার দলে। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনায়। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। কার্ড দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করাসহ অর্থ গ্রহণ, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির নগ্ন নোংরামিও দেখা যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু এই ক্ষেত্রে নয়; বরং সাংবিধানিক আটটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও নিজেদের লোক নিয়োগ দিয়ে বিএনপি সরকার চরম অনিয়ম, দুর্নীতি করেছে। এভাবে সারাদেশে জেলা পরিষদ, সিটি ও পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় নেতাদের বসিয়েছে। আবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি নির্বাচন কমিশনে। একইসাথে বিভিন্ন স্থানে নিয়োগকৃত সরকার দলীয় লোকদেরও স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার দাবি করেছি।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘এমপিদের যদি স্বাধীনভাবে ও গোপনে ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে ১১ দল মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু ৭৩ অনুচ্ছেদ তাদের দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য বাধ্য করে রেখেছে। এ ধরনের নিয়ম পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এজন্যই সংবিধান সংস্কার করা দরকার। আমরা দাবিও জানিয়েছি। কিন্তু সরকার তা কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করবে না। কারণ নিজেরা ভোট দেয়া গণভোটই তারা মানছেন না।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘মূলত সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। ঐক্যমত কমিশনে সম্মত হয়েও তারা সংস্কার কমিশনই অস্বীকার করছে। অথচ একই অধ্যাদেশে নির্বাচন করে সরকার গঠন করেছেন। অর্থাৎ যেটাতে তাদের সুবিধা হবে সেটা মানবেন, আর যেটা করলে দেশ ও জনগণের জন্য ভালো হবে তা করবেন না। এমন দ্বিচারিতার কারণেই আগামীতে ভরাডুবি হবে। স্থানীয় নির্বাচনেই এর প্রতিফলন ঘটবে।’ তবে তিনি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

এর আগে তিনি ইউএস বাংলার একটা ফ্লাইটে সৈয়দপুরে এসে পৌঁছান। সৈয়দপুর শহরের আল ফারুক অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিতব্য রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক কর্মপরিষদ সদস্যের দুই দিনব্যাপী কর্মশালা উদ্বোধন করতেই তার এই আগমন।

এ সময় তার সাথে ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও রংপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর অঞ্চল সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মমতাজ উদ্দিন, অন্যতম অঞ্চল টিম সদস্য আব্দুল হাকিম, নীলফামারী জেলা আমির ও নীলফামারী-১ আসনের এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, নীলফামারী-৪ আসনের এমপি হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম।