রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ১০ জন শিক্ষকের দৌলতদিয়া আক্কছ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে মাত্র একজন শিক্ষার্থী।
এ বছর বিদ্যালয় থেকে মোট ৩৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। বিদ্যালয়ে ১০ শিক্ষকের পাশাপাশি সহকারী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অফিস সহায়ক, আয়া, নৈশপ্রহরী ও নিরাপত্তাকর্মীসহ মোট ১৬ জন স্টাফ রয়েছেন।
এ স্কুলের রয়েছে ৩ তলা ও ১ তলা বিশিষ্ট সুন্দর তকতকে ঝকঝকে ২টি ভবন। কিন্তু শিক্ষার্থী মাত্র ৫৯ জন। এবারের এসএসসিতে ৩৩ জন অংশ নিলেও সামনের বছর নেবে মাত্র ১৮ জন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, টেস্ট পরীক্ষায় মাত্র ৭ থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিল। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এমপিও সুবিধা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানো বাধ্যতামূলক হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ৩৩ জনকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়।
প্রধান শিক্ষক মো: জাকির হোসেন বলেন, ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে অভিভাবকদের বারবার বিদ্যালয়ে ডাকা হলেও অধিকাংশ অভিভাবকই স্কুলে আসেননি এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়ে তেমন খোঁজখবর রাখেননি। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে না আসা, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার ও টিকটকে আসক্তিও ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস জানান, ফলাফল পর্যালোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, ‘এ ধরনের ফলাফল কোনোভাবেই কাম্য নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’


