এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ

নীলফামারীর এক বিদ্যালয় থেকে কেউ পাশ করেনি

আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিকরুল হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসা এবং অভিভাবকদের অসচেতনতা বড় সমস্যা। একই সাথে বাল্যবিবাহ ও শিক্ষক সঙ্কটও ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য এবার এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সম্ভব হয়নি।’

নীলফামারী প্রতিনিধি

Location :

Nilphamari
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় |নয়া দিগন্ত

নীলফামারীর ডোমারে আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ১০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়, তবে তাদের মধ্যে কেউই পাস করতে পারেনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সারাদেশে একযোগে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা যায়।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবন, শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক-কর্মচারী ও অন্যান্য অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অতি নগণ্য। নিয়মিত পাঠদানেও নেই সন্তোষজনক পরিবেশ। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৫৫ জন, অথচ নিয়মিত উপস্থিত থাকে মাত্র ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে এক একরেরও বেশি জমির ওপর আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০০ সালে বিদ্যালয়টির নিম্ন মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হয়। পরে ২০০৪ সালে মাধ্যমিক শাখায় পাঠদানের অনুমতি পায়। তবে, মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় নিম্ন মাধ্যমিক শাখার শিক্ষকদের দিয়েই মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারী রয়েছেন।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঠদানে অবহেলা ও সরকারি পর্যায়ে যথাযথ তদারকির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিকরুল হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসা এবং অভিভাবকদের অসচেতনতা বড় সমস্যা। একই সাথে বাল্যবিবাহ ও শিক্ষক সঙ্কটও ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য এবার এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সম্ভব হয়নি।’

ডোমার উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো: সাফিউল ইসলাম বলেন, ‘আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফলের প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’