চালকলের অনিয়মের অভিযোগ করায় ব্যবসায়ীকে হুমকি, প্রতিষ্ঠান বন্ধের অভিযোগ

উপজেলায় নিবন্ধিত চালকল রয়েছে ১৩৭টি। এর মধ্যে বেশ কিছু মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব মিলের মালিক একই মিল বা চাতাল দেখিয়ে একাধিক লাইসেন্সের মাধ্যমে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে চাল সরবরাহের বরাদ্দ নিচ্ছেন।

Location :

Sirajgonj
চালকল
চালকল |নয়া দিগন্ত

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় একটি চালকল দেখিয়ে একাধিক লাইসেন্স গ্রহণ, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ও পরিত্যক্ত মিলের নামে সরকারি চালের বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করায় ব্যবসায়ী এস এম সোহাগ সরকারকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ উপজেলায় নিবন্ধিত চালকল রয়েছে ১৩৭টি। এর মধ্যে বেশ কিছু মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব মিলের মালিক একই মিল বা চাতাল দেখিয়ে একাধিক লাইসেন্সের মাধ্যমে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে চাল সরবরাহের বরাদ্দ নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও চালকল মালিকদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সোহাগ সরকার।

চালকলের লাইসেন্স ও সরকারি বরাদ্দের এসব অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে মিল মালিক পক্ষ তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখাতে দেখান। এমনকি প্রাণনাশ ও চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও দাবি তার।

নিরাপত্তার জন্য রায়গঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সোহাগ সরকার।

অভিযোগকারী সোহাগ সরকার বলেন, ‘জিডি করার পর ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেলযোগে চাউল কল মালির ৩০ থেকে ৪০ জন লোক আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসে। তারা আমাকে হুমকি দিয়ে একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়। পরে ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এদিকে অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করেছে। ১৩৭টি চালকলের লাইসেন্স, মিলের অস্তিত্ব, কার্যক্রম ও সরকারি বরাদ্দসংক্রান্ত বিষয় যাচাই-বাছাই করে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম।

অভিযোগ অস্বীকার করে রায়গঞ্জ উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোতালেব বলেন, ‘সোহাগ সরকার আমাদের গালিগালাজ করায় আমরা তার হোটেল বন্ধ করে দিয়েছি।’

তবে অভিযোগকারীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া ও তাকে হুমকি দেয়ার ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সোহাগ সরকার।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, ‘চান্দাইকোনা সোহাগ সরকারের হোটেল বন্ধ করার বিষয়ে খবর পেয়েছি তখন থানা পুলিশ ঘটনার স্থলে গিয়েছে। সেই ঘটনার এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি।’

Topics