এসএসসি ও সমমান ফলাফল : পাসের হারে মাদরাসা, জিপিএতে স্কুল এগিয়ে

খাগড়াছড়িতে ৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি

জেলা শিক্ষা অফিসার সুভাষ চন্দ্র সিকদার বলেন, ‘যে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, সেগুলো তুলনামূলক দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা থেকে দূরে সরে গেছে। পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়া ছাড়া ভালো ফলাফলের অন্য কোনো উপায় নেই।’

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

Location :

Khagrachari
খাগড়াছড়ির দিঘিনালা উপজেলার তারাবনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়
খাগড়াছড়ির দিঘিনালা উপজেলার তারাবনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় |নয়া দিগন্ত

খাগড়াছড়িতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক ফল বিপর্যয় হয়েছে, জেলায় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি। চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন খাগড়াছড়ি জেলায় এসএসসিতে পাসের হার ৩৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ, বিপরীতে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীন জেলার মাদরাসাগুলোতে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ০৮ শতাংশ। অন্যদিকে, এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯০ জন, বিপরীতে দাখিলে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ছয়জন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সারাদেশের একযোগে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষনে এসব তথ্য জানা যায়।

এবছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, অথচ খাগড়াছড়ি জেলায় এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় সমন্বিত পাসের হার ৩৭ দশমিক ০৪ শতাংশ।

যে তিন প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি সেগুলো হলো সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া গার্লস হাই স্কুল, দীঘিনালা উপজেলার জারুলছড়ি হেডম্যানপাড়া হাই স্কুল এবং একই উপজেলার তারাবানিয়া হাই স্কুল।

ফলাফল বিশ্লেষণে জানা যায়, এবছর ভাইবোনছড়া গার্লস হাই স্কুল থেকে ১৭ জন, জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাই স্কুল থেকে ১৯ জন, তারাবানিয়া হাই স্কুল থেকে পাঁচজন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন স্কুল থেকে মোট সাত হাজার ৭৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে দুই হাজার ৭৬৬ জন। স্কুল পর্যায়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯০ জন।

অপরদিকে, মাদরাসা থেকে মোট ৭৬৮ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪০০ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ০৮ শতাংশ। মাদরাসায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন।

জেলা শিক্ষা অফিসার সুভাষ চন্দ্র সিকদার বলেন, ‘যে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, সেগুলো তুলনামূলক দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা থেকে দূরে সরে গেছে। পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়া ছাড়া ভালো ফলাফলের অন্য কোনো উপায় নেই।’