৯০ বছরেও বাড়েনি শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সীমানা

প্রায় দুই দশক ধরে সীমানা সম্প্রসারণের আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। অথচ প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ এলাকার জমি ও বাড়ি-ঘর ক্রয়-বিক্রয়ের সময় নিয়মিত পৌরকর আদায় করা হচ্ছে।

এম এ রকিব, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)

Location :

Sreemangal
শ্রীমঙ্গল পৌরসভা
শ্রীমঙ্গল পৌরসভা |নয়া দিগন্ত

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি চায়ের রাজধানীখ্যাত ও দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌরসভা প্রতিষ্ঠার প্রায় ৯০ বছর পেরিয়ে গেলেও সীমানা সম্প্রসারণের মুখ দেখেনি। ২০০২ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হলেও এখনো এর আয়তন মাত্র ২ দশমিক ৫৮ বর্গকিলোমিটারেই সীমাবদ্ধ। একই সাথে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পৌরসভায় নাগরিক সেবা।

১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠার সময় পৌরসভার জনসংখ্যা ছিল প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার। বর্তমানে একই সীমানার মধ্যে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। কাগজে-কলমে বসতবাড়ির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার ৬০০ হলেও বাস্তবে তা আরো বেশি। প্রতিবছর লাখো পর্যটকের আগমন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক কর্মকান্ড সম্প্রসারিত হলেও সে অনুযায়ী নাগরিক সেবার মান বাড়েনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই দশক ধরে সীমানা সম্প্রসারণের আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। অথচ প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ এলাকার জমি ও বাড়ি-ঘর ক্রয়-বিক্রয়ের সময় নিয়মিত পৌরকর আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু এসব এলাকার বাসিন্দারা বাস্তবে এখনো পৌরসভার কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না।

শ্রীমঙ্গল দলিল লেখক সমিতির সাধারন সম্পাদক ও প্রস্তাবিত পৌর এলাকার বাসিন্দা মো: ফজলুর রহমান বলেন, ‘গ্রেজেট প্রকাশের পর থেকেই প্রস্তাবিত এলাকার জমি ও বাড়ি-ঘর ক্রয়-বিক্রয়ে পৌরকর দিতে হচ্ছে। আগে দলিল মূল্যের ৪ শতাংশ এবং বর্তমানে ২ শতাংশ পৌরকর ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দেয়া হচ্ছে।’

আমজদ আলী রোডের বাসিন্দা মো: জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বছরের পর বছর পৌরকর দিলেও প্রস্তাবিত এলাকার মানুষ, রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।’

দ্রুত সীমানা সম্প্রসারণ বাস্তবায়নের দাবী জানান তিনি।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী মো: জহিরুল ইসলাম জানান, প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে পৌরসভার আয়তন বেড়ে হবে ৯ দশমিক ৫২ বর্গকিলোমিটার। এতে রুপসপুর, ভাড়াউড়া, সুনগইড়, ফুলছড়া, ভুরভুরিয়া, রামনগর ও উত্তরসুরসহ কয়েকটি মৌজার বিভিন্ন গ্রাম পৌরসভার আওতায় আসবে।

তিনি জানান, ১৯৮১ সালে প্রথম গেজেট প্রকাশের পর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ গত ১৯ জুলাই নতুন করে প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও ১৫৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে ১৪৪টি পদ শূন্য রয়েছে। মাত্র দুইজন কর্মকর্তা ও নয়জন কর্মচারী দিয়ে পুরো পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অবসরজনিত কারণেও কয়েকটি পদ শূন্য হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।’

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, প্রকৌশল বিভাগের ৬৮টি পদের মধ্যে ৫২টি, প্রশাসনিক বিভাগের ৫৪টির মধ্যে ৪৯টি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ৩৩টি পদই বর্তমানে শূন্য। ফলে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ, সড়কবাতি, পার্কিং ও সৌন্দর্যবর্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, প্রায় ৯০ বছরেও শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় স্থায়ী বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশন নির্মিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে কলেজ রোডের খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৭ সালে জেটি রোড এলাকায় এক কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৪৩ একর জমি কিনে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। হাইকোর্টে একটি মামলার কারণে আদালতের নির্দেশে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জিয়াউর রহমান বলেন, ‘পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।