চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন এমপি বলেছেন, ‘এই ডিসেম্বরে নাকি পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন! নভেম্বর হোক আর ডিসেম্বর হোক, দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। নিজেদের নেতাকর্মীদের রাস্তায় শেয়াল-কুকুরের মতো ফেলে চলে গেছেন। এই ডিসেম্বর কেন, আগামী ১০ ডিসেম্বরেও তিনি দেশে আসতে পারবেন না।’
‘যারা ফ্যামিলি কার্ডের বিরোধিতা করেছিলেন, তারাই এখন ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য আমাদের নেতা তারেক রহমানের কাছে তদবির করছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রধান, আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ফ্যামিলি কার্ড দেবেন। ইতিমধ্যে বাজেটে ৪০ লাখ ফ্যামিলি কার্ডের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মিরসরাইয়েও ১০-১৫ হাজার মা-বোনকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেব ইনশাআল্লাহ। ফ্যামিলি কার্ড পাবেন ঘরের প্রধান অর্থাৎ মা-বোনেরা। কোনো পুরুষকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে না। নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারে কার্ড করে দেওয়া হবে। প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে পাবেন। কার্ড করে দেওয়ার জন্য কোনো টাকা লাগবে না। কেউ যদি টাকা চায়, আমাদের বলবেন—আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। সামাজিক সুরক্ষার আওতায় প্রবাসী কার্ড, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সেবা সরকার চালু করছে।’
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার নিজামপুর-সাহেরখালী অলি আহম্মেদ-আবদুর রহমান সড়কের উন্নয়নকাজ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় উপজেলার নিজামপুর-সাহেরখালী অলি আহম্মেদ-আবদুর রহমান সড়কটি ২৪ ফুট প্রশস্ত ও ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ করে ৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকায় সংস্কার করা হবে। ৫টি সেতু (ব্রিজ) ও কালভার্টও নির্মাণ করা হবে। ঠিকাদারকে বলব, ওয়ার্ক অর্ডারে যেভাবে আছে ঠিক সেভাবে মানসম্মত করে সড়কের কাজ করবেন। আপনারা কাজ বুঝে নেবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেন কাজ শেষ হয়। বিগত সময়ের মতো যেন রডের বদলে বাঁশ দিতে না পারে, সেজন্য আপনারা ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেবেন।’
সড়ক সংস্কার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা ওলামা দলের যুগ্ম সম্পাদক এইচ.এম মাসুকের সঞ্চালনায় অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন—উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন সেলিম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা জমির উদ্দিন, সাহেরখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নুর হোসেন চেয়ারম্যান, সদস্য সচিব সালাহ উদ্দিন আরিফ, ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ইমাম হোসেন বাবলু, হাইতকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন, সাহেরখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব দিদারুল আলম মিলন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এস.এম হারুন ও ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মাঈন উদ্দিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন—জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া, মিরসরাই উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফারুক, উপজেলা যুবদলের সমন্বয়ক হারুন অর রশিদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহ মো. ফোরকান উদ্দিন চৌধুরী, ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মো. হুমায়ুন, তৌহিদ উদ দৌজা, মনিরুজ্জামান রুমেল, জাকারিয়া মেম্বার, ইলিয়াস উদ্দিন মাসুদ, লোকমান হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রহিম উদ্দিন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু তাহের, ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক নুর ইসলাম, সদস্য সচিব ফখরুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা ইনজামামুল হক ইমন, নাঈম সরকার প্রমুখ।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি নেতা নুরুল আমিন এমপি বলেন, ‘আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেবে, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করবেন। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আগামীতে প্রতিটি ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থীকে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী করতে হবে। চেয়ারম্যানকে বিজয়ী করার জন্য সবার মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য রাখতে হবে। আমরা নিজের স্বার্থ বড় করার জন্য নিজেকে যেন দল থেকে বড় মনে না করি। সবাই যেন দলের ছায়ার ভেতর থাকার চেষ্টা করি। গ্রুপিং না করে সবাই দলের হয়ে কাজ করুন। দল সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। কেউ দলের বাইরে গেলে তার বিরুদ্ধে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দলের কেউ তার পক্ষে থাকবে না।’


