নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুনে দগ্ধ হয়ে একে একে মৃত্যু হয়েছে একই পরিবারের মা-বাবা ও শিশুর। শিশু মারুফের মৃত্যুর দু’দিন পর মৃত্যু হয় মা বিউটির। আর তাদের মৃত্যুর পর বেঁচে নেই বাবা মাইদুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইদুলের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে একই হাসপাতালে মৃত্যু হয় বিউটির। আর শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ৮ বছরের শিশু মারুফের।
মৃত পরিবারের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কুড়িপাড়া চাপাতলি এলাকায়। সেখানে একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন পেশায় রাজমিস্ত্রি মাইদুল ইসলাম।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আগুনে মারুফের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তার মা বিউটির শরীরের ৮০ শতাংশ এবং বাবা মাইদুল ইসলামের শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ দগ্ধ হয়। তিনজনকেই গুরুতর অবস্থায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল।
হাসপাতালের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা: শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধ তিনজনের অবস্থাই ছিল সঙ্কটাপন্ন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই বাসায় হঠাৎ আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘরে থাকা মাইদুল, তার স্ত্রী বিউটি ও ছেলে মারুফ দগ্ধ হন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘরের ভেতর গ্যাস লিক হয়ে জমে ছিল। সকালে মাইদুল লাইটার দিয়ে সিগারেট ধরানোর সময় জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরে যায়।
স্থানীয়দের সহায়তায় দগ্ধ তিনজনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।


