আড়াইহাজারে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গেফতার

হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না।

Location :

Narayanganj
হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য গেফতার
হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য গেফতার |নয়া দিগন্ত

আড়াইহাজার (নারায়নগঞ্জ) সংবাদদাতা
নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারে হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের শীলমান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন শীলমান্দি গ্রামের মো: শ্যামল ভূঁইয়া, সুমন ও ইউসুফ। তাদের আদালতে পাঠিয়ে জেলহাজতে রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। একইসাথে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৃথক রিমান্ড আবেদনও করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই বাগেরহাটের ফকিরহাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হন। পরে তিনি নিজেকে আড়াইহাজারের শীলমান্দি গ্রামের একটি প্রাচীরঘেরা টিনশেড ঘরে আটক অবস্থায় দেখতে পান। সেখানে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা, মারধর এবং পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীকে দিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা আদায় করেন। এছাড়া ভুক্তভোগীর কাছে থাকা নগদ ২৭ হাজার টাকা, দু’টি মোবাইল ফোন, ব্যাংকের ডেবিট কার্ড, এক লাখ টাকার স্বাক্ষর করা চেক, একটি স্বর্ণের আংটি ও একটি হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেয়া হয়। পরে তাকে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।

পরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের শীলমান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বজলুর রহমান আদালতে দেয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরাসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র নারীকে ব্যবহার করে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে লোকজনকে নির্জন স্থানে নিয়ে অপহরণ করেন। পরে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করেন। তদন্তের স্বার্থে তাদের জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন। জামিনে মুক্তি পেলে তারা পলাতক হতে পারেন ও তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন।

এ ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় দণ্ডবিধির অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, আঘাত ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়।

আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) রিপন কুমার বলেন, ‘এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তারা নারীকে ব্যবহার করে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার মানুষকে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করত। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।’