ঢাকার সাভারে অভিযানের সময় পুলিশ ছাত্রদল নেতা মোনারুল হোসেন বকশীকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছে-এমন অভিযোগ এনে পীরগাছা থানা ঘেরাও করেছে নিহতের স্বজন ও নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ অর্থের বিনিময়ে পীরগাছা থানার ওসি সাধারণ ডায়েরিকারী মিন্টু মিয়া ও তার শ্যালককে পুলিশের পোশাক সরবরাহ করে অভিযানে অংশ নেয়ায়। পরে মোনারুল তাকে চিনতে পারলে পুলিশ ছাদ দিয়ে ফেলে হত্যা করে।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিহত ছাত্রদল নেতা মোনারুল ইসলাম বকশির স্বজন ও এলাকাবাসী পীরগাছা থানা ঘেরাও করে। এসময় তারা প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। ওসি সেলিম মালিকসহ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করেন।
বিক্ষোভে অংশ নিয়ে নিহতের বাবা জাফর আলী জানান, ‘উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি ইউনিয়নের মিন্টু মিয়ার কন্যা আমার ভাগিনা শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সাথে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে লাপাত্তা হয়। ২৩ জুলাই মিন্টু মিয়া এ নিয়ে একটি জিডি করেন। আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজপাত্তা লাগাই। কিন্তু খুঁজে পাইনি। হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বৃহস্পতিবার দুপুরে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কনক চন্দ্রের নেতৃত্বে চারজন কনেস্টবলসহ ৯ জন পুলিশ পোশাক পরিহিত অবস্থায় আমাদের বিপিএটিসির কোয়ার্টারে যান। সেখানে আমাদের নানাভাবে পুলিশ জানতে চাইলে আমরা বিলি আমরাও খুঁজছি। এসময় আমরা দেখতে পাই মিন্টু মিয়া ও তার শ্যালকও পুলিশের পোশাকে আছে। এসময় আমার পুত্র মোনারুল ইসলাম বকশী ছাদে যায়। তখন পুলিশসহ মিন্টু ও তার শ্যালক ছাদে গিয়ে আমার ছেলেকে ধরে ফেলে। আমার ছেলে পুলিশকে চার্জ করে মিন্টু মিয়া ও তার শ্যালকের গায়ে পুলিশের পোশাক কেন? এতে ঘাবড়ে যায় পুলিশ। যেহেতু চিনে ফেলেছে তাই নিজেদের বাঁচাতে তাকে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে পুলিশ।’
জাফর আলী বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে ছেলেকে মাস্টার্স পাস করিয়েছি। আমার ছেলে সাহসী। সে জুলাই যোদ্ধা। পীরগাছা থানার ওসিই মিন্টু মিয়া ও তার শ্যালককে পুলিশের পোশাক সরবরাহ করেছে।’
নিহতের বোন ও সৌমিকের মা শাহিনুর বেগম জানান, ‘মিন্টু পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ নন। তাহলে তিনি ও তার শ্যালক পুলিশের পোশাক পেলেন কোথায়, তা আমরা জানতে চাই। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কনম চন্দ্রকে গ্রেফতার করলেই বেরিয়ে আসবে।’
বিক্ষোভে অংশ নেয়া এলাকাবাসী আওলাদ মন্ডল জানান, নিখোঁজ কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া তাকে ও কিশোরের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছেন। পুলিশের সাথে মিন্টুর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
নিহত মোনারুল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর আলীর ছেলে ও সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। বাবার চাকরির সুবাধে সাভারের বিপিএটিসির কোয়ার্টারে থাকতেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো টাকা-পয়সার বিনিময়ে মিন্টু বা কাউকে পুলিশের পোশাক সরবরাহ করিনি।’
মিন্টু মিয়া অভিযানে থাকতে পারেন কি-না— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘থাকতে পারেন না। মৃতের লোকজন এসেছে। তারা প্রতিবাদ করছে। বিষয়টি তদন্তে দুটি কমিটি হয়েছে।’
তিনি কোনোভাবেই এই ঘটনার সাথে জড়িত নন বলেও দাবি করেন।
বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা মোনারুলের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সাভার থানা-পুলিশ। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) জাহাঙ্গীর আলমকে। অন্যদিকে রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আসিফা আফরোজ আদরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পরেই বিস্তারিত জানা যাবে।’
রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিকারপ্রার্থী কাউকে পুলিশের পোশাক দেয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে যেহেতু পরিবার থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, এই বিষয়টিও তদন্ত করা হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।’
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভিকটিমের পক্ষ থেকে পীরগাছা থানায় কোনো মামলা দেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।


