রূপগঞ্জে বসতভিটায় বালু ফেলার প্রতিবাদে থানায় গণঅভিযোগ ও মানববন্ধন

পৈতৃক বসতঘর, ভিটামাটি ও উর্বর কৃষিজমি রক্ষায় অব্যাহত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রূপগঞ্জ থানায় গণঅভিযোগ দায়ের শেষে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার শতাধিক বাসিন্দা।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Rupganj
রূপগঞ্জে বসতভিটায় বালু ফেলার প্রতিবাদে থানায় গণঅভিযোগ ও মানববন্ধন
রূপগঞ্জে বসতভিটায় বালু ফেলার প্রতিবাদে থানায় গণঅভিযোগ ও মানববন্ধন |নয়া দিগন্ত

পৈতৃক বসতঘর, ভিটামাটি ও উর্বর কৃষিজমি রক্ষায় অব্যাহত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রূপগঞ্জ থানায় গণঅভিযোগ দায়ের শেষে মানববন্ধন করেছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের শতাধিক বাসিন্দা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রূপগঞ্জ থানার সামনে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন ভুক্তভোগী জমির মালিক ও কৃষকরা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মাঝিনার বাসিন্দা জমির মালিক রফিকুল ইসলাম, মাঝিনা নদীর পাড়ের বাসিন্দা ইলিয়াস পারভেজ, ইছাখালীর বাসিন্দা অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম, আহসান উল্লাহ মাস্টার, পশ্চিমগাঁও এলাকার গৃহিণী হাসনা বেগম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, একটি প্রভাবশালী চক্র কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ১৭টি মৌজায় ৪২টি গ্রামের কৃষিজমি, বসতভিটাসহ ৮ হাজার একর জমিতে জোরপূর্বক অবৈধভাবে বালু ভরাট করে আবাসনের নামে দখল করে নিচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করলেই মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। তাই স্থায়ী সমাধান পেতে আমরা গণকর্মসূচি পালন করছি।

আজ শতাধিক অভিযোগ থানায় দায়ের করার পর মানববন্ধন করলাম। ভবিষ্যতে বৃহত্তর কর্মসূচি করব।

বক্তারা আরো জানান, রূপগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কায়েতপাড়ার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা প্রায় দুই শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক ও সাধারণ মানুষ একযোগে থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত গণঅভিযোগ দাখিল করেন।

এ সময় তারা দাবি করেন, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি মৌজায় ড্রেজার বসিয়ে জোরপূর্বক পৈতৃক ও কৃষিজমিতে বালু ভরাট করা হচ্ছে। যারা এর প্রতিবাদ করতে যাচ্ছেন, তাদেরই নানাভাবে ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে।

‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর নেতৃবৃন্দ মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কায়েতপাড়ার উর্বর জমি এ অঞ্চলের কৃষকদের মূল চালিকাশক্তি। প্রভাবশালী চক্রের কাছে কৃষকের রক্তের দামে অর্জিত ভিটামাটি সমর্পণ করা হবে না। অবিলম্বে এই অবৈধ বালু ভরাট ও জমি দখল বন্ধ করা না হলে রূপগঞ্জজুড়ে আরও কঠোর ও কঠোরতর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

কর্মসূচিতে আগত বক্তারা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অবিলম্বে অবৈধ বালু ভরাট বন্ধ, ড্রেজার পাইপ অপসারণ এবং জড়িত ভূমিদস্যু চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের এএসপি (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, ৫০টিরও অধিক কৃষক ও জমি মালিকের অভিযোগ পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন মহলকে জানিয়ে তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।