রাজধানীর পল্লবীতে মাদক বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় মাদককারবারি ও সন্ত্রাসী ল্যাংড়া রুবেলসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো: শফিকুল ইসলাম।
ডিবি প্রধান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মাদক বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে আলমগীরসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জেরেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে আলমগীর গুলিবিদ্ধ হন এবং এক পথচারী নারীও আহত হন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আলমগীর একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে ঢাকা শহরে অনেকগুলো মামলা রয়েছে। মাদক বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগির হিসাব নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল বলে আমরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছি।’
তিনি বলেন, গ্রেফতারদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ড চাওয়া হবে। জিজ্ঞাসাবাদে আরো তথ্য পাওয়া গেলে, সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ল্যাংড়া রুবেলের সম্পদের বিষয়ে ডিবি কর্মকর্তা বলেন, তার ব্যবহৃত দু’টি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। গাড়ি দু’টির নম্বর প্লেট যাচাই করে দেখা যায়, সেগুলো অন্য দুই ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত। ওই দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, গাড়ি দু’টি রুবেল তাদের নামে কিনে দিয়েছেন।
ডিবি প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, হেমায়েতপুরে রুবেলের একটি বাড়ি রয়েছে। যদি কোনো প্রাসাদের তুলনায় কম নয়। রুবেলের দৃশ্যমান কোনো বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করেছেন।
ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, রুবেল মাদক থেকে উপার্জিত অর্থ অন্যান্য জায়গায় বিনিয়োগ করছে। অন্য ব্যক্তিদেরও কাজে লাগাচ্ছে। বিষয়গুলো আমরা মাথায় রেখেছি। প্রয়োজনে সিআইডির মাধ্যমে মানি লন্ডারিং মামলা করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।’
তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেশিরভাগ অপরাধের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সফল হয়েছে। পল্লবীর এ ঘটনাটিও দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করে আরো তথ্য সামনে আনার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ল্যাংড়া রুবেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, তার নামে সাতটি মামলা রয়েছে। একজনকে হত্যার চেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেফতারের জন্য ডিবির সদস্যরা গত তিন দিন ধরে পরিশ্রম করেছেন। ঢাকার বাইরে ও গাজীপুরেও অভিযান চালানো হয়েছে। পরে বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রুবেলের জামিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আগে অন্য একটি মামলা ছিল এবং সে মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়ে জামিনে ছিলেন কি না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি লেন, ল্যাংড়া রুবেলের বিরুদ্ধে থাকা হত্যাচেষ্টা মামলাসহ অন্যান্য মামলার বিষয় আদালতের নজরে আনা হবে। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততাকেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। অপরাধের সাথে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করছি। রাজনৈতিক কোনো তকমা দিয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তার রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী- দুই জায়গাতে যোগাযোগ থাকলেও আমরা তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। অপরাধের সাথে যে জড়িত হবে, তার অন্য কোনো পরিচয় আমরা আমলে নেব না।
উত্তরায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই তাসীন আক্তার হক ও তার অংশীদার ইয়াসিনের মালিকানাধীন ডিএল ফিলিং স্টেশনের এক কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাই বিষয়ে তিনি বলেন আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করছি, তদন্ত চলমান রয়েছে।


