মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত ২১ জুলাই এবং ৯ আগস্ট পৃথক দুর্ঘটনায় ওই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এর মধ্যে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয় মেস কক্ষ থেকে, অন্যজন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খালপাড় এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার মেস কক্ষ থেকে ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস কর্মকারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, ৯ আগস্ট (রোববার) বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজ এলাকায় বিআরটিসির একটি বাসের সাথে যাত্রীবোঝাই থ্রি-হুইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত। দুর্ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে উদীয়মান দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়োগে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের মাতম ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মনজুর হোসেন কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘মানুষের জীবন অমূল্য, কোনো কিছুর বিনিময়েই এই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়। একসাথে পথচলা ও আড্ডা দেয়া মানুষগুলো যখন হঠাৎ এভাবে হারিয়ে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। প্রতিটি শিক্ষার্থীর দাবি—বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত মানসিক কাউন্সেলিংয়ের জন্য চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হোক এবং সামনের রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করা হোক, যাতে আর কোনো তাজা প্রাণ ঝরে না যায়।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ভূমিকা সরকার বলেন, ‘পরপর দুজন শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে ক্যাম্পাসের বাতাস যেন ভারী হয়ে আছে। আমরা সবাই এক ধরনের মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমরা বারবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কাউন্সিলিং সেল গঠনের দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু তারা কখনো এতে কর্ণপাত করেনি। শিক্ষার্থীদের মানসিক ট্রমা থেকে বের করে আনতে অবিলম্বে দক্ষ কাউন্সেলিং চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া জরুরি।’


