ইবিতে নানা আয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Location :

Kushtia
ইবিতে নানা আয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত
ইবিতে নানা আয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত |নয়া দিগন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শোভাযাত্রা, জুলাই অভ্যুত্থানের ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও ভলিবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।

764300508_1523015759105965_3821306983471977912_n

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড় ৯টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী এবং রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো: মনজুরুল হক।

764938221_1062052483143586_5669163577120928109_n

পরে বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ভিসি। এরপর তার নেতৃত্বে প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসিসিতে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মতিনুর রহমান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ বা মতপার্থক্য ছিল না। আমাদের রক্তের রঙও ভিন্ন ছিল না। বাংলাদেশকে ফ্যাসিস্টমুক্ত রাখতে সবাইকে সেভাবেই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তাহলেই যারা শহীদ হয়েছেন, জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ আন্দোলনে সব রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। রাজনৈতিক ব্যানারে আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটলে এটি আমার মনে হয় সাফল্যের মুখ দেখত না। কৌশলগত কারণে রাজনৈতিক দলগুলো নেপথ্যে যে ভূমিকা রেখেছে, সেটি নিঃসন্দেহে স্মরণীয়। কিন্তু আন্দোলনে সফলতার পর আমরা বিষয়গুলোকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করি না। এই অবমূল্যায়নই আমাদের দেশে বারবার বিপর্যয় ডেকে এনেছে।’

এর আগে টিএসসিসি প্রাঙ্গণে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে ভলিবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত কর্মসূচিতে ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্র ইউনিয়ন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, খেলাফত ছাত্র মজলিসসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল অংশ নেয়নি।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রশাসনের কর্মসূচি শুরু হলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সেখানে দেখা যায়নি।

তবে সকাল ১০টার দিকে সংগঠনটি নিজস্ব ব্যানারে ক্যাম্পাসে পৃথক র‍্যালি বের করে। র‍্যালিটি ঝালচত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এতে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক নূর উদ্দিনসহ নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেন।

প্রশাসনের কর্মসূচিতে অংশ না নেয়ার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ বলেন, ‘প্রশাসন তাদের কর্মসূচিতে আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে আমাদের দলীয় কর্মসূচি থাকায় আলোচনা সভায় অংশ নিতে পারিনি। সেভাবে সময়ও হয়ে ওঠেনি।’

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, ‘জুলাইকে ধারণ করতে আমরা আলোচনায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। তারই অংশ হিসেবে আজ আমরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছি। এ কারণে প্রশাসনের আলোচনা সভায় অংশ নেইনি।’