গবেষণা, উদ্ভাবন ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রত্যয়ে শিক্ষার্থীদেরকে গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে লিডিং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটির (এলইউআরএস) উদ্যোগে ‘এলইউআরএস থার্ড স্টুডেন্টস রিসার্চ কনফারেন্স ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) গবেষণামুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও ধারণাকে বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধানে রূপান্তরের সুযোগ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ‘একটি উন্নত আগামীর জন্য ধারণাকে টেকসই সমাধানে রূপান্তর’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী, তরুণ গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, বিচারক ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে এ সম্মেলনটি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং অ্যাকাডেমিক জ্ঞান বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস।
সম্মেলনে পোস্টার প্রেজেন্টেশনে প্রথম স্থান অর্জন করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ বিভাগের শিক্ষার্থী শাফোয়ান ইসলাম জীম, দ্বিতীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট এর শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ ভূঁইয়া ইমন।
এবারের সম্মেলনে পেপার প্রেজেন্টেশনে বিজয়ী হয়েছেন লিটারেচারে প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর শিক্ষার্থী এসকে মাশরুবা আল তাবাস্সুম, বিজনেসে গোপালগঞ্জ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির মো: মাহিদ কবির, লাইফ সায়েন্স অ্যান্ড এগ্রিকালচারে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মো: ওমর ফারুক, সোশ্যাল সায়েন্সে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মানতাকা নিহাদ অরনা, পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড গভান্যান্সে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির মো: মোহায়মিনুজ্জামান এবং মেশিন লার্নিং এবং এ আই এ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এম এম জাহিদ হাসান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণে কনফারেন্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ রাগীব আলী। লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাই।
গবেষণা হলো জাতীয় উন্নয়ন ও বৈশ্বিক অগ্রযাত্রার ভিত্তি উল্লেখ করে ড. সৈয়দ রাগীব আলী বলেন, ‘যেকোনো জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণ প্রজন্মের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, উদ্ভাবন এবং জ্ঞানের মাধ্যমে সমাজের সেবা করার সক্ষমতার ওপর। তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে যাদের জ্ঞান ও উদ্ভাবনী গবেষণা সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম। লিডিং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত, যেখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণা উপস্থাপন করতে, আইডিয়া আদান-প্রদান করতে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের গবেষকদের সাথে মতবিনিময় করতে পারে।’
তিনি মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ফলপ্রসূ অভিজ্ঞতার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার জন্য লিডিং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
লিডিং ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেন, ‘গবেষণা হলো প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষের ভিত্তিপ্রস্তর এবং উদ্ভাবনের অনুঘটক। সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থাপনা ও দেশের উন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেই, তাছাড়া নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করতে এবং সমাজের পরিবর্তনশীল চাহিদা মেটাতে সক্ষম এমন সমাধান উদ্ভাবন করতে সহায়তা করতে গবেষণালব্ধ জ্ঞানের প্রয়োজন।’
তিনি আরো বলেন, ‘টেকসই বিশ্ব গড়তে উচ্চশিক্ষায় গবেষণা একটি মৌলিক বিষয়। লিডিং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার জন্য প্রশংসার দাবিদার, যা শিক্ষার্থীদের ও তরুণ গবেষকদের তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফল বিনিময়, জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন শাখার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা করতে উৎসাহিত করে। এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করে এবং ভবিষ্যৎ গবেষকদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসু মনোভাব জাগিয়ে তোলে।’
এবারের সম্মেলন থেকে প্রাপ্র জ্ঞান অর্থবহ ও দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নে প্রভাব ফেলতে শিক্ষার্থীদেরকে অনুপ্রাণিত করবে। শিক্ষকদেরকে সিনিয়র স্কলার এবং শিক্ষার্থীদেরকে জুনিয়র স্কলার উল্লেখ করে তিনি লিডিং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটিকে এমন একটি উদ্যোগ যা শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকেও গবেষণায় সম্পৃক্ত করতে এবং যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে, দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটাতে পারে এবং উদ্ভাবন ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষের সংস্কৃতিতে অবদান রাখতে পারে তার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন এবং সেন্টার ফর রিসার্চ ইনোভেটিভ স্টাডিজ এন্ড প্লানিং এর উপদেষ্টা প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, লিডিং ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মো: লুৎফর রহমান। সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন লিডিং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটির উপদেষ্টা ড. সাফকাত কিবরিয়া।
সম্মেলনে কীনোট স্পিকার হিসেবে ছিলেন মো: সায়দুর রহমান কোহিনুর। সম্মেলন সমাপনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুছ সামাদ সুমু এবং বর্তমান সভাপতি নিবিড় রায়, জেনারেল সেক্রেটারি খন্দকার সাঈদ আহমেদ, ট্রেজারার জয়তি প্রকাশ অনিন্দ। সকল শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং উপদেষ্টা ড. শাফকাত কিবরিয়া এবং সহ-উপদেষ্টা মো: জামানের রহমানের নিরলস প্রচেষ্টায় এই গৌরবময় অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্ভব হয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন শিক্ষার্থী ফাইজা কোরেশী এবং নিশাত তানজিনা।
সম্মেলনের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল ফিউচার এডচ, টাইমস আইটি, এল এস এ, বাংলাদেশ স্পেসালিটি কফি অ্যাকাডেমি সিলেট ব্রাঞ্চ, সিলেট কম্পিউটার, সেন্টমার্ক, ক্রিস্টাল কেনভাস, মেহমান রেস্টুরেন্ট, স্কিনো।


