জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৩ শহীদ পরিবারকে সম্মাননা দিলো বাকৃবি

‘৫ আগস্ট আমাদের কাছে ৩৬ জুলাই। অনেক ত্যাগ, সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দিন নতুন বাংলাদেশের চেতনা বহন করে।’

মো: লিখন ইসলাম, বাকৃবি
শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হচ্ছে
শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে তিনজন শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়।

সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার জুলাই শহীদ হাফিজুল ইসলামের স্ত্রী হালিমা আক্তার আঁখি, ফুলপুর উপজেলার শহীদ সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ও তার বাবা তৈয়ব আলী ও ত্রিশাল উপজেলার শহীদ আমিনুল ইসলামের স্ত্রী তানজিনা আক্তার।

এর আগে, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বিজয় র‍্যালির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই আন্দোলনের ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জুলাই শহীদদের রূহের মাগফিরাত, জাতীয় সংহতি ও দেশের অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো: আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

সভায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো: রফিকুল ইসলাম সরদার। সভাপতিত্ব করেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো: শহীদুল হক।

সভায় ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো: শহীদুল হক বলেন, ‘৫ আগস্ট আমাদের কাছে ৩৬ জুলাই। অনেক ত্যাগ, সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দিন নতুন বাংলাদেশের চেতনা বহন করে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আন্দোলনে যার যতটুকু অবদান রয়েছে, তা স্বচ্ছতার সাথে মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি দেয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্র-জনতা, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের মাধ্যমেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। অন্যায়-ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এ চেতনা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

প্রধান অতিথি মো: আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকার দায়িত্ব আমাদের। সুযোগ অনুযায়ী আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব।’

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সকালে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার চারটি বিভাগে বিজয়ী মোট ১২ জনের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।