শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো: খায়রুল ইসলাম বলেছেন, ‘গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে প্রাথমিকভাবে অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থীকে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (টিএশিপ) দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে প্রশাসন।’
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ভিসি বলেন, ‘আমরা চাই গবেষণার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হোক। সে লক্ষ্যেই প্রতিটি বিভাগে শুরুতে অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থীকে টিএশিপ দেয়ার বিষয়ে কাজ করছি। এতে গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই অ্যাকাডেমিক ও গবেষণামূলক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলন নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগ, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম, মুগ্ধ এবং শাবিপ্রবির শহীদ রুদ্র সেনসহ সকল শহীদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শুধু বক্তৃতা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আগামীতে যারা বক্তব্য দেবেন, তারা যেন নিজ নিজ বিভাগ থেকে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানানো আমাদের সবার দায়িত্ব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশেও তিনি বলেন, ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরিবার, তাই উন্নয়নের জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’
শহীদ রুদ্র সেনের স্মৃতি সংরক্ষণে একাধিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ভিসি বলেন, ‘শহীদ রুদ্র সেন মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ নামে একটি বৃত্তি চালু করা হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকা সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রতি বছর ১৮ জুলাই শহীদ রুদ্র সেনের শাহাদাতবার্ষিকীতে এ বৃত্তি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি তার স্মৃতি সংরক্ষণে একটি স্থায়ী পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
তিনি জানান, রুদ্র সেনের নামে নামকরণ করা লেকের সৌন্দর্যবর্ধন, স্মৃতিফলক নির্মাণ এবং তার স্মৃতি সংরক্ষণে অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তবায়নের সুপারিশ দেবে ওই কমিটি। সুপারিশ পাওয়ার পর দ্রুত কাজ শুরু হবে।
ক্যাম্পাস উন্নয়ন প্রসঙ্গে ভিসি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কিলোমিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে টেন্ডার পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া চার কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
ছাত্রী হলের আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ভবনের কাজ আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও আবাসন সুবিধা বাড়বে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং উন্নয়ন নিয়েও প্রশাসন কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন একা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে পারে না। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতাই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা সবাই মিলে কাজ করলে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।’
তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত এবং গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম করা সকল মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান।


