প্যারিসের অদূরে লা কর্নভেতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উৎসব

প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের জন্য এমন আয়োজন শুধু বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করে না, বরং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। একই সাথে নতুন প্রজন্মের সাথে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক শিকড়ের সম্পর্ক ধরে রাখতে এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, প্যারিস (ফ্রান্স)
প্যারিসে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উৎসব
প্যারিসে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উৎসব |নয়া দিগন্ত

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অদূরে লা কর্নভেতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উৎসব। দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল ফুটবল টুর্নামেন্ট, শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, বিনোদনমূলক আয়োজন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন পরিণত হয় মিলনমেলায়। উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটিতে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিল ফুটবল টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে দিনভর চলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই। দর্শকদের উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচ শেষে সেন্ট-ডেনিস কালচারাল সোসাইটি চ্যাম্পিয়ন এবং জেনারেশন গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। এ সময় খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

ফুটবল টুর্নামেন্টের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্যও ছিল নানা ধরনের ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতা। দৌড়, মোরগ লড়াইসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মধ্যে বেলুন ফোটানো, মোরগ লড়াই ও রশি টানাটানি উপস্থিত দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। প্রতিযোগিতাগুলো ঘিরে শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি অভিভাবক ও দর্শকদের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ। হাসি-আনন্দ, করতালি ও উচ্ছ্বাসে পুরো অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী ও অতিথিদের জন্য সকালের নাশতা এবং দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনের বিভিন্ন পর্বে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য আরো বাড়িয়ে দেয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফ্রাঙ্কো-বাংলা সোশিও কালচারাল সোসাইটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম। ক্রীড়া উৎসব বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় সহযোগিতায় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক আয়োজনের বিভিন্ন পর্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর, কমিউনিটি নেতা গোলাম ফারুক ভূঁইয়া, জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান, কামরুল ইসলামসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা পুরো আয়োজন ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোর ও খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন।

অতিথিরা বলেন, প্রবাসে বসবাস করেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি। বিশেষ করে ফ্রান্সে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন আরো সুদৃঢ় হয়।

তারা আরো বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের জন্য এমন আয়োজন শুধু বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করে না, বরং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। একই সাথে নতুন প্রজন্মের সাথে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক শিকড়ের সম্পর্ক ধরে রাখতে এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

আয়োজকরা জানায়, প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি শিশু-কিশোরদেরও এসব কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানায় তারা।

দিনব্যাপী উৎসবের শেষ পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। খেলাধুলা, শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রাণবন্ত এ আয়োজন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে লা কর্নভের এ উৎসব পরিণত হয় বাংলাদেশী কমিউনিটির এক আনন্দঘন মিলনমেলায়।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং ফ্রান্সে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সাথে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিকড়ের সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।