দেশের চলচ্চিত্র জগৎকে পুনর্গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

‘আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে দক্ষ পরিচালক, প্রযোজক ও শিল্পী গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। আগামী ২০, ৩০ বা ৪০ বছর পর যেন তাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে, সে লক্ষ্য নিয়ে আমাদের এখন থেকেই কাজ করতে হবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী |ফাইল ছবি

দেশের চলচ্চিত্র জগৎকে সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে এবং সার্বিক মানোন্নয়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্য নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা শুরুতে সভা আয়োজনের গুরুত্ব নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেন।

সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে দক্ষ পরিচালক, প্রযোজক ও শিল্পী গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। আগামী ২০, ৩০ বা ৪০ বছর পর যেন তাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে, সে লক্ষ্য নিয়ে আমাদের এখন থেকেই কাজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, চলচ্চিত্রকে শুধু এফডিসি কেন্দ্রিক না রেখে, আমরা সামগ্রিক চলচ্চিত্র শিল্পের টেকসই উন্নয়ন চাই। শালীনতা বজায় রেখে এমন সুস্থধারার সিনেমা নির্মাণ করতে হবে, যা পরিবার-পরিজন নিয়ে একসাথে বসে দেখা যায় এবং সাধারণ দর্শক যেন কাজগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’র মতো কালজয়ী চলচ্চিত্রের দৃষ্টান্ত টেনে তিনি দেশীয় স্ক্রিপ্ট রাইটারদের দক্ষতা ও মান বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর দেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার চলচ্চিত্র খাতের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই খাতের একটি দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে চায়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসা ও পূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চলচ্চিত্র ও বিনোদন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক কাজী জেসিন, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এ এস এম জাহিদ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া চলচ্চিত্র খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, প্রযোজক, পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নিয়ে মতামত প্রদান করেন। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক ও চরকীর সিইও রেদোয়ান রনি, চলচ্চিত্র নির্মাতা সৈয়দ আহমেদ শাওকী, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, হিমেল আশরাফ, রায়হান রাফি, রুবায়েত মাহমুদ, সরদার সানিয়াত হোসেন, প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল, মীর মোকাররম হোসাইন (শুভ) ও সহযোগী প্রযোজক শাকিব হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক পরিবেশক সৈকত সালাহউদ্দিন, বিসিএপিবিএস-এর সদস্য শাহরিয়ার করিম ভূঁইয়া, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহিন সুমন ও সাধারণ সম্পাদক শাহিন কবির টুটুল, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল এবং বিশিষ্ট অভিনেতা ও অভিনেত্রী হেলাল খান, আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, আজমেরী হক বাঁধন প্রমুখ। বাসস