নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নৌচলাচল নিশ্চিত করতে নৌযান শুমারি শুরু হচ্ছে

নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা, ধরন, ব্যবহার, মালিকানা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যের একটি নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নৌপরিবহন খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নীতিনির্ধারণ এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নৌচলাচল নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসান
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসান |নয়া দিগন্ত

নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি ২০২৬ পরিচালনা করা হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সহযোগিতায় আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী এ শুমারি অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ভবনে নৌযান শুমারি ২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত সমন্বয়কারীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসান এই তথ্য জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এ দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের জীবনযাত্রার সাথে নদী ও নৌপথের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। কিন্তু নৌপথের সম্ভাবনাকে আমরা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি।’

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়কপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। এ চাপ কমাতে নৌপথের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নৌপথকে ব্যবসা-বাণিজ্য, পণ্য ও যাত্রী পরিবহন এবং পর্যটনের জন্য আরো কার্যকরভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করা সম্ভব।

তিনি বলেন, নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা, ধরন, ব্যবহার, মালিকানা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যের একটি নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নৌপরিবহন খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নীতিনির্ধারণ এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নৌচলাচল নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

নৌযান শুমারির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৌপথের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আধুনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

নৌযোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুরুত্বারোপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী নৌপথের উন্নয়ন ও এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও উপাত্ত অপরিহার্য। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণে সঠিক পরিসংখ্যানের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গড়মিল, অনিয়ম বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি ।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নৌপথকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হওয়ায় পণ্য পরিবহনে নৌপথের গুরুত্ব অনেক বেশি। নৌপথের কার্যকর ব্যবহার ও উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করা সম্ভব। তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নৌযান শুমারি সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পেশাদারিত্ব ও সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো: ফিরোজ সরকার, নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর মো: শফিউল বারী এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মো: শামীমুল হক।

এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন অধিদফতর এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নৌযান শুমারি কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।