খসড়া মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ

বুধবার (১০ জুন) এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের তুলনায় নতুন খসড়ায় এমন কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা একটি স্বাধীন, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার জনআকাঙ্ক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক। এ কারণে আইনটি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ এবং টিআইবির প্রস্তাবিত ১৯ দফা সুপারিশ বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, বর্তমান খসড়ার ভিত্তিতে কমিশন গঠিত হলে তা একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

বুধবার (১০ জুন) এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের তুলনায় নতুন খসড়ায় এমন কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা একটি স্বাধীন, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার জনআকাঙ্ক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক। এ কারণে আইনটি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ এবং টিআইবির প্রস্তাবিত ১৯ দফা সুপারিশ বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, খসড়া আইনের ৩(২) ধারায় কমিশন কোনো মন্ত্রণালয় বা সরকারি বিভাগের অধীন হবে না—এমন গুরুত্বপূর্ণ বিধান বাদ দেয়া হয়েছে। এতে কমিশনের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া কমিশনার নিয়োগের জন্য গঠিত বাছাই কমিটিতে স্পিকার, দুইজন মন্ত্রী, সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে অন্তর্ভুক্ত করায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, এতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য আটকস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের ক্ষমতা কমিশনকে দিতে হবে। পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা বা শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কমিশনের স্বাধীন ক্ষমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

খসড়া আইনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী ও নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না করায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। সংস্থাটি কমিশনে অন্তত একজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং কমপক্ষে দুইজন নারী কমিশনার অন্তর্ভুক্তির বিধান সংযোজনের প্রস্তাব দিয়েছে।

এ ছাড়া কমিশনের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রেষণে নিয়োগের হার কমানো এবং বাজেট ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

টিআইবি বলেছে, একটি স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশন রাষ্ট্র ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কমিশন যদি স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব বর্তমান ক্ষমতাসীন দল থেকে শুরু করে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল এবং দেশের সাধারণ নাগরিকদের ওপর পড়বে।