ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে প্রাণ ফিরেছে। একইসাথে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে গুগল-মেটা ও টিকটকের কাছ থেকেও।
শনিবার (৮ আগস্ট) গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। দেশের প্রথম এই হাই-টেক পার্কে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ সরেজমিনে দেখতে মন্ত্রী সেখানে যান।
এই পরিদর্শন সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন অগ্রগতিরও অংশ। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে আইসিটি খাতে সফটওয়্যার, অ্যাপ ও হার্ডওয়্যার শিল্পে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়া এবং ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় পণ্যকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করার অঙ্গীকার রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ‘ন্যাশনাল গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি’ বাস্তবায়ন এবং এআই হাব ও সফটওয়্যার-অ্যাপ-হার্ডওয়্যার উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ফিসকাল ও নন-ফিসকাল প্রণোদনার প্রস্তাবনাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
মাহবুব আনাম স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর দেশে প্রথম ‘আইসিটি পলিসি-২০০২’ প্রণয়নের ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কালিয়াকৈরে ২৩১.৬৫ একর জমিতে হাই-টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৬ সালে আরও ৯৭.৩৩ একর জমি যুক্ত করা হয়। বর্তমানে পার্কের মোট আয়তন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭১ একরে।
তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আরো বলেন, মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নের পর দেশী-বিদেশী কোম্পানিগুলোকে জমি ও রেডি স্পেস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সফটওয়্যার, অ্যাপ, হার্ডওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে এ পর্যন্ত মোট ৮৫টি প্রতিষ্ঠানকে জমি বা স্পেস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে বিদেশি প্রতিষ্ঠান সাতটি। ইতোমধ্যে ৪০টি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা বা উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে, ২৮টি নির্মাণাধীন এবং ১৭টির শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু হবে। বাসস


