বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সাথে কাজ করছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (টিটিডিসি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র বানানো আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ। আমরা সবাই একসাথে সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছি।
আফরোজা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের বিপুল পর্যটন সম্ভাবনা উন্মোচনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে এবং এ খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শুধু একটি লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন-দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের উন্নয়ন।’
পর্যটন খাতের প্রতি সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে আফরোজা জানান, প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে জাতীয় পর্যটন কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরে পর্যটনের জিডিপি অবদান বর্তমান প্রায় তিন শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করা।
তিনি আরো জানান, জাতীয় পর্যটন মাস্টার প্ল্যান চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং কক্সবাজার, সিলেট ও খুলনা জুড়ে একটি বৃহৎ পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন। ইতোমধ্যে সরকারের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় শতাধিক পেশাদার ট্যুর গাইড প্রশিক্ষিত হয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পর্যটন খাত জাতীয় জিডিপিতে প্রায় তিন শতাংশ অবদান রাখছে, যা প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। এ খাত হোটেল, এয়ারলাইনস, রেস্টুরেন্ট, ট্যুর অপারেশন ও স্থানীয় গাইডিং সেবায় দুই মিলিয়নেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ৩০টিরও বেশি জেলায় স্বীকৃত পর্যটন গন্তব্য রয়েছে, কিন্তু বিপুল সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।
এ সময় আফরোজা মন্তব্য করেন, ‘আমরা যেন স্বর্ণের খনির ওপর বসে আছি, অথচ চামচ দিয়ে খনন করছি’।
বেসরকারি খাতের নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার নীতি প্রণয়ন ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হোটেল ব্যবসায়ী, ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইনস ও তরুণ উদ্যোক্তাদেরই বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী, গবেষক, বিমান খাতের অংশীজন ও গণমাধ্যমের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ছাড়া সরকারের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। বাসস


