ডিএসসিসি’র ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে ‘ক্লিনিং ডে’ পালন ও ব্যতিক্রমী বর্জ্য শোভাযাত্রা

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, মাসের প্রথম শনিবার রাজধানীর ৭৫টি ওয়ার্ডে মশা নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালু করা হয়েছে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি এ কর্মসূচির আওতায় অপরিষ্কার এলাকা ও বন্ধ ড্রেন পরিষ্কার করা হবে। এ কার্যক্রমে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং রাজনৈতিক সংগঠনের অংশগ্রহণেরও আহবান জানান তিনি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে সড়কে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ চলছে
পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে সড়কে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ চলছে |সংগৃহীত

মাসের প্রথম শনিবার হিসেব আজ ১ আগস্ট ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে পালিত হয়েছে মাসিক ‘ক্লিনিং ডে’। এছাড়া, রাজধানীতে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন করতে ব্যতিক্রমধর্মী ‘বর্জ্য শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর শাহবাগে বর্জ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন এবং ‘ক্লিনিং ডে’র কার্যক্রমের সূচনা করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে ডিএসসিসি এই বিশেষ দিবস পালন করে আসছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিকদের সচেতনতা ও সামাজিক উদ্যোগ ছাড়া কোনোভাবেই ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত করা সম্ভব নয়। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ দূষণের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরের তালিকা থেকে ঢাকাকে বের করে আনতে হলে নাগরিকদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। ‘আমরা যদি নিজেরা সচেতন না হই, তাহলে কোনোভাবেই ঢাকা শহরকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।

মো: আবদুস সালাম বলেন, অতীতে বিভিন্ন স্থানে বসানো ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আবারো ডাস্টবিন স্থাপন শুরু হয়েছে। ফলে এখন যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কোনো অজুহাত নেই। তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে বর্জ্য রাখার জন্য বিন স্থাপনের আহবান জানান।

জলাবদ্ধতার জন্য শুধু সিটি করপোরেশনকে দায়ী না করে নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি পলিথিন কিংবা একটি ম্যাট্রেস ড্রেনের মুখ আটকে দিলেই পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই ড্রেনে কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলার আহবান জানান তিনি।

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, মাসের প্রথম শনিবার রাজধানীর ৭৫টি ওয়ার্ডে মশা নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালু করা হয়েছে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি এ কর্মসূচির আওতায় অপরিষ্কার এলাকা ও বন্ধ ড্রেন পরিষ্কার করা হবে। এ কার্যক্রমে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং রাজনৈতিক সংগঠনের অংশগ্রহণেরও আহবান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি যদি বদলাই, তাহলে ঢাকা শহর বদলাবে।’ পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার পাশাপাশি রাজধানীতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড কমাতে এবং অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সমাজে এ ধরনের মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষের সংখ্যা বাড়লে দেশ ও সমাজ উপকৃত হবে।

পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে নাগরিক, গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগেরও আহবান জানান তিনি।

বক্তব্য শেষে একটি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা নাগরিকদের মধ্যে জলাবদ্ধতার কারণ, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।

শোভাযাত্রায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ডিএসসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: খয়বর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো: জামাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য, পরিবেশকর্মী, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সূত্র : বাসস