আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার, কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা এবং অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী ও পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ৮ জুন জাতিসংঘ কার্যালয়ের টেম্পাস হলে দেয়া বক্তব্যে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুগে কর্মসংস্থানের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, শ্রম আইন সংস্কার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শ্রমব্যবস্থা গড়ে তুলতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ সরকার ও দেশের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের মনোনয়নে শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। ৩০ মে রাতে তিনি জেনেভার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। ৩১ মে থেকে ১২ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
সম্মেলনের অংশ হিসেবে ৮ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভাস্থ জাতিসংঘ দপ্তরের টেম্পাস হলে বক্তব্য প্রদান করেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতে তিনি আইএলও মহাপরিচালকের সময়োপযোগী প্রতিবেদনের প্রশংসা করেন এবং ন্যায়বিচার, মর্যাদা, সমতা ও সবার জন্য শোভন কাজ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইএলওর আদর্শের প্রতি বাংলাদেশের শ্রমিক সমাজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে একজন শ্রমিক নেতা হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া শ্রমজীবী মানুষের প্রতি আস্থা ও স্বীকৃতির প্রতিফলন।
শ্রমিকদের সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায়ে সম্মিলিত আলোচনার অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে নারী কর্মসংস্থান হ্রাস, যুব বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং অভিবাসী শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের প্রায় ৭ কোটি ৩৫ লাখ কর্মশক্তি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ অভিবাসী শ্রমিকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শ্রমিক সুরক্ষায় অধিক বিনিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য দক্ষতা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ভিত্তিক বৈশ্বিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেন।
তিনি ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা, এআই প্রযুক্তিতে ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও দক্ষ অভিবাসনের সুযোগ বৃদ্ধি এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি দুটি মৌলিক কনভেনশনসহ আইএলওর তিনটি কনভেনশন অনুমোদন করেছে। তিনি শ্রম আইন সংস্কার, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার, শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সামাজিক সংলাপ শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।
আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে তার বক্তব্য শ্রমিক অধিকার, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রভাব, অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থানকে বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরেছে।



