বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়া নারী ও শিশুসহ ২১ জন ব্যক্তিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ফেরত নিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেমের (আরমান) পাঠানো এক চিঠির আনুষ্ঠানিক জবাবে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ।
বুধবার (১০ জুন) জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক ওই জবাবপত্র পাঠান। পত্রের একটি অনুলিপি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত মিশনপ্রধান ক্যাথরিন নর্থিংকেও দেয়া হয়েছে।
জবাবপত্রে জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী- পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে আটকে পড়া নারী ও শিশুসহ ২১ জন ব্যক্তিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ফেরত নেয়ার বিষয়টি একটি স্বস্তিদায়ক অগ্রগতি। তবে তারা সীমান্তের ঘটনাবলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিশেষত নারী, শিশু ও অন্যান্য বিপন্ন জনগোষ্ঠীর মানবিক ও সুরক্ষাগত পরিণতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
জাতিসঙ্ঘ আরো জানায়, অভিবাসীদের আইনি পরিচয় যা-ই হোক না কেন, তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি মৌলিক অগ্রাধিকার।
বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই যে ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন-সংক্রান্ত বৈশ্বিক চুক্তি’র (জিসিএম) স্বাক্ষরকারী, তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। পত্রে উল্লেখ করা হয়, উভয় দেশই অভিবাসন-ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং বিপন্ন অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। এ ছাড়া প্রয়োজনে সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে আইওএম’র মাধ্যমে সমন্বয়, তথ্য বিনিময়, পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা দিতে জাতিসঙ্ঘ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়।
জাতিসঙ্ঘের ওই দ্রুত ও নীতিনিষ্ঠ সাড়াকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আটকে পড়া মানুষগুলোকে ফেরত নেয়ার খবরকে স্বাগত জানাই। এটি প্রমাণ করে, মানবিক সঙ্কটে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা সার্থক। তবে এ স্বস্তি যেন আত্মতুষ্ট না করে— অবৈধ পুশইন সম্পূর্ণ বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য, এবং সীমান্ত হত্যা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, কারো বৈধতা যাচাইয়ের প্রশ্ন থাকলে তা প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া মেনেই নিষ্পত্তি হতে হবে; পুশইনের মাধ্যমে নয়। বিরোধী দল হিসেবে সীমান্তে ভুক্তভোগী মানুষের পাশে থাকা এবং প্রতিটি উপযুক্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই বিষয়গুলো তুলে ধরা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, সীমান্তে আটকে পড়া মানুষদের জীবন ও মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে গত ৭ জুন জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ও আইওএম’র কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম।



