আফ্রিকান সামরিকপোকা দমন করছে ছত্রাক : আশার আলো দেখছে কৃষককুল

দেখা যায়, একটি নির্দিষ্ট এলাকার ক্ষেতে হাজার হাজার সামরিকপোকা সাদা এক ধরণের পদার্থের আস্তরণে ঢেকে মরে পড়ে আছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
এই ছত্রাক ব্যবহার করে শুঁয়াপোকাগুলোকে পুরোপুরি মেরে ফেলা সম্ভব।
এই ছত্রাক ব্যবহার করে শুঁয়াপোকাগুলোকে পুরোপুরি মেরে ফেলা সম্ভব।

সামরিক বাহিনীর মতো দলবদ্ধভাবে সুসংগঠিত হয়ে এক ফসলের মাঠ থেকে অন্য ফসলের মাঠে কুচকাওয়াজের ভঙ্গিতে ছড়িয়ে পড়ে সব শস্য তছনছ করে দেয় ক্ষতিকর 'আফ্রিকান আর্মিওয়ার্ম' বা সামরিকপোকা। আফ্রিকা অঞ্চলের অন্যতম ধ্বংসাত্মক এই শুঁয়াপোকা দমনে অবশেষে মিলল প্রাকৃতিক সমাধান। মাটির এক প্রাকৃতিক ছত্রাক ব্যবহার করে এই পোকা ধ্বংস করার সফল হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার পতঙ্গবিদ ও বিজ্ঞানী লেতোদি লুকি মাথুলওয়ে।

সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার কাওয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের কিকুয়ু ঘাসের জমিতে ব্যাপক হারে আক্রমণ চালায় এই সামরিকপোকা। গবাদিপশুর খাবারের প্রধান উৎস এই ঘাস বিনাশের পাশাপাশি পোকাগুলো এক ধরণের ক্ষতিকর রাসায়নিক ছড়ায়, যা গবাদিপশুকেও অসুস্থ করে ফেলে। তৎকালীন সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষি বিভাগে কর্মরত মাথুলওয়ে আতঙ্কিত কৃষকদের থেকে একের পর এক ফোন পেতে থাকেন। পরিস্থিতি দেখতে মাঠে নেমে তিনি এক অবাক করা দৃশ্য লক্ষ্য করেন। দেখা যায়, একটি নির্দিষ্ট এলাকার ক্ষেতে হাজার হাজার সামরিকপোকা সাদা এক ধরণের পদার্থের আস্তরণে ঢেকে মরে পড়ে আছে।

পিয়েটারমারিজবার্গের গবেষণাগারে মৃত পোকা ও ওই সাদা পদার্থের নমুনা পরীক্ষা করে মাথুলওয়ে নিশ্চিত হন, এটি একটি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি মাটিভিত্তিক ছত্রাক। এই ছত্রাক ব্যবহার করে শুঁয়াপোকাগুলোকে পুরোপুরি মেরে ফেলা সম্ভব। গবেষণা পত্রে মাথুলওয়ের দল তাদের এই নতুন সাফল্যের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এই শুঁয়াপোকা ছোট অবস্থায় কীটনাশক দিয়ে কিছুটা ঠেকানো গেলেও পূর্ণবয়সী হলে তা দমনের কোনো কার্যকর উপায় এত দিন ছিল না। ভুট্টা ও সোরগামের মতো প্রধান খাদ্যশস্যের ক্ষতি করার পর এরা মথ বা পতঙ্গ হয়ে নতুন জায়গায় উড়ে যায়। ২০১৭ সালেই জাম্বিয়ায় এক আক্রমণে প্রায় ৪০ শতাংশ ভুট্টা নষ্ট হয়েছিল, যা জিম্বাবুয়ে ও মালাউইয়ের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তাকে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়।

বিজ্ঞানী মাথুলওয়ে জানান, এই ছত্রাক দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী ওষুধ বা পণ্য তৈরির কাজ চলছে। এটি বাজারে আসলে ভবিষ্যতে আর্মিওয়ার্মের প্রাদুর্ভাব নিয়ে কৃষকদের সব দুশ্চিন্তা কেটে যাবে।