আমদানি লেনদেনে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আরো সহজ ও সুসংহত করতে গত এক বছরে জারি করা বিভিন্ন নির্দেশনা একীভূত করে নতুন সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জারি করা এ সার্কুলারের মাধ্যমে আমদানি-সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধানকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট জারি করা এফই সার্কুলার নং-৩৩ হালনাগাদ করা হয়েছে। গত এক বছরে জারি হওয়া পরবর্তী নির্দেশনাগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে আমদানি লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকার, আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পৃথক পৃথক সার্কুলার অনুসরণের প্রয়োজন অনেকটাই কমবে। নতুন সার্কুলার কার্যকর হওয়ার সঙ্গে আমদানি-সংক্রান্ত আগের নির্দেশনাগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে আমদানি-সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ের নির্দেশনা বহাল থাকবে।
নতুন কাঠামোয় আমদানি বাণিজ্য ও অনলাইন রিপোর্টিংয়ের পাশাপাশি ঋণপত্র (এলসি) খোলা, অনুমোদিত পরিশোধ পদ্ধতি, অগ্রিম অর্থ প্রেরণ এবং বিল অব এন্ট্রি দাখিলের বিধান রাখা হয়েছে। একই সাথে সরবরাহকারী ও ক্রেতার ঋণ, আমদানি দায় পরিশোধ এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সংক্রান্ত নিয়মও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমদানি-সংক্রান্ত নথি প্রক্রিয়াকরণ, আমদানি পরিশোধের ক্ষেত্রে রপ্তানি আয় সংরক্ষণ এবং বৈদেশিক মুদ্রায় অভ্যন্তরীণ এলসি ব্যবহারের বিধানও নতুন কাঠামোয় রাখা হয়েছে। বিশেষায়িত ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, স্বর্ণ, রুপা, গহনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার নোট আমদানির বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর ২০(৩) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সার্কুলারটি জারি করা হয়েছে। এর নির্দেশনা আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে। এ সময়ে নতুন কোনো নির্দেশনা জারি হলে তা নতুন সার্কুলারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োগ করতে হবে।
ব্যবসায়ী মহল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, ডিজিটাল নথি প্রক্রিয়াকরণ ও বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি আমদানি বাণিজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এর সুফল পেতে ব্যাংক ও আমদানিকারকদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।


