ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ডব্লিউইউবি) এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উদ্যোগে আন্তঃবিভাগীয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি উৎসব ‘CiviCon 2026’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ভবিষ্যতের জন্য উদ্ভাবনী টেকসই সমাধান’ প্রতিপাদ্যে গত ৩১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসবে শিক্ষাবিদ, প্রকৌশল পেশাজীবী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিচারক, আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের প্রকৌশলবিষয়ক জ্ঞান, ব্যবহারিক দক্ষতা ও উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরার সুযোগ দিতে উৎসবে চারটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এগুলো হলো—প্রকল্প প্রদর্শনী, পোস্টার উপস্থাপনা, অটোক্যাড প্রতিযোগিতা ও মেকানিক্স অলিম্পিয়াড।
উৎসবের আনুষ্ঠানিক পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয় ফাউন্ডিং ট্রেজারার মোরশেদা চৌধুরী অডিটোরিয়ামে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. নুরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক জাকী ইমাম এবং একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড রিসার্চ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ কিউ এম শফিউল আজম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান সাগর কুমার পোদ্দার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এম. নুরুল ইসলাম বলেন, শ্রেণিকক্ষে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব প্রকৌশল সমস্যা সমাধানে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করে—এমন একাডেমিক উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে।
অধ্যাপক জাকী ইমাম বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অধ্যাপক ড. এ কিউ এম শফিউল আজম উচ্চশিক্ষায় গবেষণা, সৃজনশীলতা ও আন্তঃবিষয়ক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রতিযোগিতাগুলো মূল্যায়ন করেন পাঁচজন বহিরাগত বিচারক। তারা হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ প্রকৌশলের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড. মো. তারেক উদ্দিন, পিইং; বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান; হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষণা প্রকৌশলী ড. পার্থ সাহা এবং কনসল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত দাস ভৌমিক।
প্রকল্প প্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় ইয়াসির আরাফাত সান্তো, মো. মাসুদ রানা ও মো. রাশেদ আনসারি রেদোয়ান চ্যাম্পিয়ন হন। প্রথম রানারআপ হন মো. মাইনুল হাসান, মো. নাঈম আল রিফাত ও মো. আল আমিন। দ্বিতীয় রানারআপ হন মো. সিফুর রহমান, মো. কাজী আবিদুল ও আবু জাফর মো. ওবায়দুল্লাহ সিদ্দিকী।
পোস্টার উপস্থাপনা প্রতিযোগিতায় মো. আশাদুজ্জামান আসিফ, সৌরভ দে ও লোকিব হোসায়েনি লিমন চ্যাম্পিয়ন হন। প্রথম রানারআপ হন মো. তাহসানুল হক, ফাহমিদা আফরিন নোহা ও ইয়াসির আরাফাত সান্তো। দ্বিতীয় রানারআপ হন এস এম অলিউল হাসান, তুম্পা মণ্ডল ও প্রসান্ত মণ্ডল।
অটোক্যাড প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন মো. তানভীর আহমেদ রাতুল। প্রথম রানারআপ মাহমুদুল হক এবং দ্বিতীয় রানারআপ মো. মাহবুব হাসান।
মেকানিক্স অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন হন গুলশানা আক্তার মীম। প্রথম রানারআপ আফসানা আক্তার রিমু এবং দ্বিতীয় রানারআপ হন রাকিবুল হাসান মারুফ।
সমাপনী পর্বে চার প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান সাগর কুমার পোদ্দার উপদেষ্টা কমিটি, আয়োজক কমিটি, বহিরাগত বিচারক, মেন্টর, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি শিক্ষার্থীদের প্রকৌশল জ্ঞানকে উদ্ভাবনী ও টেকসই সমাধানে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। ভবিষ্যৎ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষতা বিকাশে ‘CiviCon’ নিয়মিত একাডেমিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তি


