বিটিআরসি চেয়ারম্যান

মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ নিয়ে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা জরুরি

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, মোবাইল টাওয়ার স্থাপনে কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমতি ছাড়া টাওয়ার স্থাপনের সুযোগ নেই। টাওয়ারের বিকিরণ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরে জনসচেতনতা বাড়াতে কমিশন কাজ করছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Rangpur

মোবাইল টাওয়ারের তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.)। তিনি বলেন, অনুমোদিত নিয়ম ও নির্ধারিত মান অনুসরণ করেই মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করতে হয়।

মঙ্গলবার সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘মোবাইল টাওয়ারের তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ পর্যবেক্ষণ, জনসচেতনতা ও সেবার মান উন্নয়ন’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, মোবাইল টাওয়ার স্থাপনে কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমতি ছাড়া টাওয়ার স্থাপনের সুযোগ নেই। টাওয়ারের বিকিরণ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরে জনসচেতনতা বাড়াতে কমিশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, টাওয়ারের রেডিও সংকেত ও ক্ষমতার বিষয়টি কারিগরি। তাই এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং নির্ধারিত মান বজায় রাখা জরুরি। বাড়ির ছাদে টাওয়ার স্থাপন নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবে অনুমোদিত নিয়ম ও নির্ধারিত মান মেনেই টাওয়ার স্থাপন করা হয়।

ইন্টারনেট সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ইন্টারনেট প্যাকেজ চালু রয়েছে। তবে সেবার মান ও গ্রাহকের অধিকার নিশ্চিত করাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল দায়িত্ব। নেটওয়ার্কের মান, গ্রাহকসেবা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নে বিটিআরসি কাজ করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং প্রযুক্তি ব্যবহারে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে, যা সত্য তথ্য নিয়েও মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি ব্যবহারে অভিভাবকদের নজর রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়। সন্তানরা কী ধরনের গেম খেলছে বা কী ধরনের বিষয়বস্তু দেখছে, সেদিকে অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে। একই সাথে মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত আসক্তি থেকে তাদের দূরে রাখতে হবে।

সভায় বিটিআরসির প্রকৌশল ও পরিচালনা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সভায় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

রংপুরে ১১ স্থানে বিকিরণ পরিমাপ
বিটিআরসি জানায়, রংপুর শহর ও আশপাশের এলাকায় ৮ থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত চার দিন তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ ও মোবাইল সেবার মান পরিমাপ করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, আবাসিক এলাকা, বাজার, বাণিজ্যিক এলাকা ও টাওয়ারসংলগ্ন স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ১১টি স্থানে এ পরিমাপ চালানো হয়।

পরিমাপ করা স্থানগুলোর মধ্যে গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেল, ক্যান্টনমেন্ট রোড, শাপলা মোড়, আলমনগর, শ্যামলী টেকনিক্যাল কলেজ, রেলওয়ে স্টেশন, তাজহাট বাজার, তাজহাট জমিদারবাড়ি, টাউন হল ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয় রয়েছে।

বিটিআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক কমিশন অন নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন প্রোটেকশনের নির্ধারিত নিরাপদ সীমা প্রতি মিটারে ৬১ ভোল্ট। রংপুরের গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেল এলাকায় সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৭৯৫ ভোল্ট এবং ক্যান্টনমেন্ট রোডে ১০ দশমিক ৪৮০ ভোল্ট বিকিরণ পাওয়া গেছে। রেলওয়ে স্টেশনে সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল শূন্য দশমিক ৪৭৪ ভোল্ট। জেলার অন্য কোনো স্থানে বিকিরণের মাত্রা প্রতি মিটারে ১১ ভোল্ট অতিক্রম করেনি।

মোবাইল সেবার মানও পরিমাপ
একই সময়ে রংপুর শহর ও আশপাশের এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের সেবার মানও পরিমাপ করা হয়। এতে দ্বিতীয় প্রজন্মের ভয়েস কলের গুণগত মানের গড় সূচক পাওয়া গেছে ৩ দশমিক ৮৭, যেখানে নির্ধারিত মান ৩ দশমিক ৫-এর বেশি।

চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেটের তথ্য গ্রহণের গড় গতি পাওয়া গেছে প্রতি সেকেন্ডে ২৩ দশমিক ৩৯ মেগাবিট। নির্ধারিত মান ছিল ১০ মেগাবিটের বেশি। তথ্য পাঠানোর গড় গতিও নির্ধারিত প্রতি সেকেন্ডে ২ মেগাবিটের বিপরীতে পাওয়া গেছে ১২ দশমিক ৯৪ মেগাবিট।