আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা : ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে ৪ মানবাধিকার সংস্থা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির প্রসিকিউটর, বিচারক, ফিলিস্তিনের তিনটি প্রধান মানবাধিকার সংস্থা এবং ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপায়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চারটি শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা ফেডারেল আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আদালতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বাধা দিতেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু বুধবার (১২ আগস্ট) জানায়, সংস্থাগুলোর মনে করে, আদালতের ওপর এই আঘাত আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের নীতিকে পুরোপুরি নস্যাৎ করার এক 'বেআইনি পদক্ষেপ'।

আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার ওপর 'প্রত্যক্ষ হামলা'

আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটি, সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং ওপেন সোসাইটি ইনস্টিটিউট—এই চার মানবাধিকার সংস্থা একজোটে আদালতে আর্জি জানিয়েছে।

মামলায় বলা হয়, মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপ আইন শাসন, বিচারক, প্রসিকিউটর ও আইনজীবীদের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আক্রমণ। একই সাথে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার মূল ভিত্তি ও সমতার নীতিকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনকারীদের বিচারের আওতায় আনার আন্তর্জাতিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিবাদের মূল উৎস : ফিলিস্তিন ও গাজা ইস্যু

মামলাটিতে মূল লক্ষ্য ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা একটি নির্বাহী আদেশ। ওই আদেশের মাধ্যমে ফিলিস্তিনে ইসরাইলের সম্ভাব্য অপরাধের তদন্তে যুক্ত আইসিসির কর্মকর্তা, বিচারক ও সহযোগীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের যে ১৮টি বড় তদন্ত আইসিসি পরিচালনা করছে, ফিলিস্তিনের ঘটনা তার অন্যতম।

যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসির সদস্য নয় এবং শুরু থেকেই এই আদালতের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে আসছে। তবে ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এর জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির প্রসিকিউটর, বিচারক, ফিলিস্তিনের তিনটি প্রধান মানবাধিকার সংস্থা এবং ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপায়।

নতুন এই মামলার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন বিধিনিষেধমূলক পদক্ষেপকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে আমেরিকার এই চার মানবাধিকার দল।